মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম, ফ্রান্স থেকে: প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইসলামী শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও বাংলা ভাষা-সংস্কৃতির চর্চা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে সেন্টার কালচারাল মুসলিম কমিউনিটি ফ্রান্স। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটির মক্তবের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক এবং কমিউনিটির বিশিষ্টজনদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে মসজিদের হলরুম মুখরিত হয়ে ওঠে।

সেন্টারের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সালাউদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং মক্তবের শিক্ষক আরিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। পরে মক্তবের শিক্ষার্থীরা হামদ, নাত ও মনোজ্ঞ ইসলামী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করে উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মক্তবের পরিচালক নুরুল ইসলাম, হিফজ বিভাগের প্রধান শিক্ষক বেলায়েত খানসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ। বক্তারা বলেন, প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের ইসলামী শিক্ষা, নৈতিক চরিত্র গঠন এবং নিজস্ব ভাষা-সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখা সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে মক্তবের শিক্ষা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তারা আরও বলেন, ফ্রান্সের মতো ইউরোপীয় দেশে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি মাতৃভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখতে পরিবার, সমাজ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে নিয়মিত কোরআন শিক্ষা, ইসলামী জ্ঞান, নৈতিক শিক্ষা ও বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বক্তারা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্তানদের পার্থিব শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে আরও সচেতন ও আন্তরিক হতে হবে। একটি মূল্যবোধসম্পন্ন, মানবিক ও সচেতন প্রজন্ম গড়ে তুলতে মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব অপরিসীম।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মক্তবের বিভিন্ন শ্রেণিতে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী এবং নিয়মিত উপস্থিত শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উচ্ছ্বাসে পুরো অনুষ্ঠানস্থলে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অতিথিরা সেন্টার কালচারাল মুসলিম কমিউনিটি ফ্রান্সের শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ভবিষ্যতেও প্রবাসী নতুন প্রজন্মের নৈতিক ও ধর্মীয় বিকাশে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।