চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দিন দিন বাড়ছে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি মাতৃসেবা, ছোট অস্ত্রোপচার, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, টিকাদান ও স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ফলে সরকারি এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত জুলাই মাসে বিভিন্ন বিভাগে ২৪ হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। এর মধ্যে আন্তঃবিভাগে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৬৯১ জন, বহির্বিভাগে ১৬ হাজার ৪৮৪ জন এবং জরুরি বিভাগে ৩ হাজার ৫১৮ জন। এ ছাড়া মাতৃসেবায় ৮৯টি নরমাল ডেলিভারি ও ৫টি সিজারিয়ান ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে। ছোট সার্জারির মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ১০০ রোগী চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাপস কান্তি মজুমদারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সমন্বিতভাবে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের সেবার মান উন্নয়নেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ও আশপাশে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস, স্প্রে ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গু, পরিচ্ছন্নতা, ডায়রিয়া প্রতিরোধ ও টিকার গুরুত্ব নিয়েও স্বাস্থ্যশিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। এসব কার্যক্রমে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ওমর ফারুক ও স্বাস্থ্য পরিদর্শক (ইনচার্জ) কামাল উদ্দিন দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় হাটহাজারীতে হাম রোগীর সংখ্যা অনেক কমেছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। উপজেলায় প্রায় ৫২ হাজার শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৫৩ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে। বর্তমানে এইচপিভি টিকা কর্মসূচি চলমান রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে নিয়মিত ইপিআই টিকাদান কর্মসূচিও অব্যাহত রয়েছে।
তবে সেবার পরিধি বাড়লেও হাসপাতালটিতে কিছু অবকাঠামোগত ও জনবল সংকট রয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রয়োজনের তুলনায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যা কম। কমপক্ষে ৬ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী প্রয়োজন হলেও বর্তমানে রয়েছেন মাত্র ২ জন। নার্স সংকটও রয়েছে।
এ ছাড়া নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিদ্যুৎ চলে গেলে অনেক সময় মোমবাতি জ্বালিয়ে চিকিৎসকদের চিকিৎসাসেবা দিতে হয়। এ পরিস্থিতিতে জরুরি সেবা অব্যাহত রাখতে অন্তত ৩টি আইপিএস স্থাপন করা গেলে রোগী ও চিকিৎসাসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই উপকৃত হবেন বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের কার্যক্রম পরিদর্শন ও সেবার মান উন্নয়নে বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি ও সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম। পরিদর্শনকালে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সৌনম বড়ুয়া, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাপস কান্তি মজুমদার, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সোহানিয়া আক্তার বিল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাটহাজারীবাসীর জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করতে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।