স্টাফ রিপোর্টার
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হাম ও হাম উপসর্গে মৃত রোগীর সংখ্যা ৯৭৩ জন। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১৬২ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৫৭ হাজার ৯৯১ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৯৪ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৩১২ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৪৫ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪০০ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৮৭৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে, এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজন মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছর মোট ৯৭ জনের মৃত্যু হলো। এছাড়া নতুন এক হাজার ১৬৩ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৫৪৪ জন।
সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গু-সংক্রান্ত নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী। পুরুষদের একজনের বয়স ৬১ থেকে ৬৫ এবং অপরজনের বয়স ৭১ থেকে ৭৫ বছরের মধ্যে। নারীদের একজনের বয়স ৫১ থেকে ৫৫ এবং অন্যজনের ৬১ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে।
মোট মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৯৭ জনের মধ্যে নারী ৫৪ জন এবং পুরুষ ৪২ জন। এছাড়া একজনের তথ্য পরে ‘ফলস’ এসেছে। ঢাকা বিভাগের ক্ষেত্রে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ৩৪, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ১২ ও সিটি করপোরেশনের বাইরে তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। সেই সঙ্গে খুলনায় ১৮, বরিশাল ও ময়মনসিংহে নয়জন করে, চট্টগ্রামে ছয়, রাজশাহীতে চার এবং রংপুর ও সিলেটে একজন করে মারা গেছেন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৫ হাজার ৮৪৬ জন। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩৩ হাজার ২০৫ জন।
স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর থেকে জানান, গাজীপুরে হাম ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর প্রকোপ বাড়ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গতকাল ৩১ আগস্ট পর্যন্ত শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম ও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন মোট ৩ হাজার ৭৩৯ জন। এর মধ্যে হামে ২ হাজার ৫২৮ এবং ডেঙ্গুতে ১ হাজার ২১১ জন। এ সময়ে দুই রোগে মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৭৩ জন।
হামে ২,৫২৮ ভর্তি, মৃত্যু ৫-
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৫২৮ জন। চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২ হাজার ৪৫৭ জন। মারা গেছেন ৫ জন। বর্তমানে হাম নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ৬৬ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামে আক্রান্ত ২৭ জন ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৪ জন শিশু ও ৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক। এ সময়ে ১৫ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে এবং কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি।
ডেঙ্গুতে ভর্তি ১,২১১-
চলতি বছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২১১ জন। চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ১৮ জন এবং ১০৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে। ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ২ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ৪৬ জন ভর্তি হয়েছেন। সাতজনকে রেফার এবং ৩৭ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যু হয়নি।
বর্তমানে হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১০৩ জন ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ৫৮, নারী ২৯ এবং শিশু ১৪ জন।