ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্দ্যোগে ‘ফ্রম দ্যা রিভার টু দ্যা সি: ভয়েসেস ফ্রম প্যালেস্টাইন- এ্যান ইন্টারন্যাশনাল সেমিনার অন লিবারেশন এন্ড জাস্টিস’ শীর্ষক আর্ন্তজাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল সোমবার বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার অডিটোরিয়ামে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন প্যালেস্টাইন স্কলারস্ এসোসিয়েশনের সভাপতি নওয়াফ হাইল তাকরুরী, ধর্মতাত্ত্বিক, গবেষক এবং আইএফএমের প্রতিষ্ঠাতা ড. ইহসান সেনোসেক আফেন্দি, তুরস্কের রিবাত হিউম্যানিটেরিয়ান এইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইয়্যিদ মেহমেত ডুমান, আল কুদস ওয়াকফ ফর হেল্প এন্ড এডুকেশনের চেয়ারম্যান ড. জাকারিয়া খালিল, ডাকসুর ভিপি মো: আবু সাদিক কায়েম, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ শাহীন ও কার্যনির্বাহী সদস্য আনাস ইবনে মুনির।
নওয়াফ হাইল তাকরুরি বলেন, আমরা সবাই বায়তুল মাকদিসের বাসিন্দা। আপনাদের পূর্বপুরুষ সাইফুল আযম ইসরায়েলের বিমান ধ্বংস করেছিল। এটাই প্রমাণ করে পবিত্র ভূমির আপনাদের সম্পর্ক কতটা দৃঢ়। আমি তার কবর জিয়ারত করার নিয়ত করেছি।
তিনি বলেন, আরব দেশগুলো ইসরায়েলের সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপন করছে। কিন্তু আপনাদের দেশের পাসপোর্ট দিয়ে এখনও ইসরায়েলে প্রবেশ করা যায় না।
মুসলিমদের সাথে আল-আকসার সম্পর্কের ধর্মীয় গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, আল কুদস হলো সকল মুসলমানের শহর। তাই আমাদের উচিত সর্বদা কুদস নিয়ে চিন্তা করা। মাসজিদুল আকসা মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্র স্থান এবং প্রথম কিবলা। এ ভূমির গুরুত্ব বোঝানোর জন্যই এটিকে মুসলিমদের প্রথম কিবলা বানিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ইসরায়েল রায় প্রদান করেছে তারা ইচ্ছে করলেই ফিলিস্তিনি বন্দীদের হত্যা করতে পারে। আমি আপনাদের অনুরোধ জানাব, আপনারা এর প্রতিবাদে কর্মসূচি পালন করুন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি ইসরায়েল এই মানবতাবিরোধী রায়ের বিরুদ্ধে একটি আর্ন্তজাতিক সেমিনারের আয়োজন করার আহবান জানান । সেমিনারে যেন বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমরা এক্ষেত্রে সকল ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
তরুণ-তরুণীদের প্রতি তিনি আহবান জানান, আপনারা বুদ্ধিমান। আপনাদের মনে সর্বদা ফিলিস্তিনকে জাগ্রত রাখুন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আল-আকসার ইস্যুটিকে জাগ্রত রাখুন।
ড. ইহসান সেনোকাক আফেন্দি বলেন, তুর্কির সাথে এ অঞ্চলের মানুষের সম্পর্ক অতি পুরাতন। উম্মাতের খারাপ সময়ে আলেমদের ভূমিকা পালন করতে হয়। এমন বিপদে আমাদের ধৈর্য ধারণ করতে হবে। আমাদের ইমান হতে হবে ইব্রাহিমের (আ.) মতো। পবিত্র ভূমির মানুষের ইমানও এমন। তারা বিশ্বাস করে এই বিপদ ক্ষণস্থায়ী। পরকালে তাদের প্রিয়জনদের সাথে তাদের পুনরায় সাক্ষাৎ
ইসলামের সাম্যের বাণী উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাসুল সকল শ্রেণি-বর্ণ-গোত্র-জাতিদের ঐক্যবদ্ধ করেছিল। তার সাথে ছিল ক্রীতদাস বেলাল, ধনবান আবু বকর, পারস্যের সালমান ফারসি। এভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমরাও একদিন বিজয়ীর বেশে আল কুদসে প্রবেশ করতে পারব।
ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মো. আবু সাদিক কায়েম বলেন, ফিলিস্তিন নিয়ে আমাদের কার্যক্রম অনেক কমে গিয়েছে। শুধু সভা-সেমিনার করে নয়, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, মিডিয়ার মতো প্রতিষ্ঠান তৈরি করে আমাদের ফিলিস্তিনের মুক্তিতে ভূমিকা রাখতে হবে। আমাদের ফিলিস্তিনের মুক্তির একটি রূপরেখা তৈরি করতে হবে।
ইসরায়েলের মানবতাবিরোধী কার্যক্রমের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আমাদের নেতা ইসমাইল হানিয়া, ইয়াহিয়া সিনওয়ারদের হারিয়েছি। এছাড়াও পবিত্র ভূমিতে জায়নবাদীরা এখনো আমাদের ভাই-বোন এবং শিশুদের হত্যা করে যাচ্ছে। আমরা যখন ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ছিলাম তখন বাংলাদেশের পতাকার পাশাপাশি আমরা ফিলিস্তিনের পতাকাও ব্যবহার করতাম। আমরা আশা করি, খুব দ্রুত ফিলিস্তিন স্বাধীন হবে।
ড. জাকারিয়া খালিল বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যুটি শুধুমাত্র একটি মজলুম জাতি বা ধর্মীয় ইস্যু নয়। এ ভূমিটি হলো নবীদের ভূমি। এই ভূমিতে অসংখ্য নবীর আগমন ঘটেছে। ফিলিস্তিন ইস্যুটি মুসলিম জাতির ঐক্যের ইস্যু। এই ইস্যুটিকে কেন্দ্র করেই মুসলিম জাতি ঐক্যবদ্ধ হবে। গাজার যুদ্ধ শুধুমাত্র ফিলিস্তিন বাসীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ছিল না। এ যুদ্ধে মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে। গাজায় প্রচুর মসজিদ,মাদ্রাসা ধ্বংসের শিকার হয়েছে। সেখানকার প্রায় ৯৬ হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষার্থী শিক্ষা বঞ্চিত। গাজার যুদ্ধপদ্ধতিতে ইখওয়ান এবং মিশরের আলেম শায়েখ ইউসুফ আল কারযাবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।