মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আজ রোববার বিশেষ নির্দেশনা জারি করতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দীর্ঘ ৪০ দিনের রমজান ও ঈদুল ফিতরের ছুটি কাটিয়ে গত ২৯ মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত ক্লাস শুরু হলেও বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট সরকারকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে শিক্ষা কার্যক্রমে বড় ধরনের রদবদলের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আপাতত সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও সেখানে আসছে নতুনত্ব। জ্বালানি সাশ্রয়ে জোড়-বিজোড় ভিত্তিতে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সশরীর পাঠদানের প্রস্তাবনা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।
একদিন অনলাইনে ক্লাস হলে পরের দিন সরাসরি ক্লাসরুমে পাঠদান হবে। অনলাইন ক্লাসের দিনও শিক্ষকদের সশরীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে হতে পারে।
তবে বিজ্ঞানের ব্যবহারিক পরীক্ষা বা অন্যান্য প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসগুলো বাধ্যতামূলকভাবে সশরীর নেওয়া হবে। জ্বালানি নির্ভরতা কমাতে ও পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ইলেকট্রিক বাস আমদানির বড় সুযোগ দিচ্ছে সরকার।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ঢাকা ও মফস্বলের স্কুলগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় নতুন ইলেকট্রিক বাস আমদানি করতে পারবে। তবে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে কেউ এই বাস আনলে তাকে ২০ শতাংশ শুল্ক গুনতে হবে। এক্ষেত্রে কড়া শর্ত হলো, বাসগুলো অবশ্যই সম্পূর্ণ নতুন হতে হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আজ রোববার থেকে আলাদা নির্দেশনা দেবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো, কোনোভাবেই যেন শিক্ষার্থীদের পাঠদান বা শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।’
আজ দুপুরের মধ্যেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি গণমাধ্যমে জানানো হতে পারে। পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই বিশেষ গাইডলাইন কার্যকর হবে।