মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (BAC) কর্তৃক স্বীকৃতি অর্জনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ‘BAC অ্যাক্রেডিটেশনের জন্য কারিকুলাম ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৬ আগস্ট ২০২৬ (রোববার) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক গুণগত নিশ্চয়তা সেল (IQAC) কনফারেন্স রুমে IQAC-এর উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণে অ্যাক্রেডিটেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে আমাদের একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। কত দিনের মধ্যে আমরা কোন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারব, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে।

ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, মাভাবিপ্রবিতে রোবটিক্স, ট্রিপল-ই (EEE) ও আর্কিটেকচারের মতো আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী বিষয় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে এআই (AI) ল্যাব স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। এ ল্যাব চালু হলে শিক্ষার্থীরা আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবে, যা ভবিষ্যতে তাদের কর্মক্ষেত্রে বিশেষভাবে উপকারী হবে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম, কারিকুলাম, মূল্যায়ন পদ্ধতি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায় ধারাবাহিক উন্নয়ন প্রয়োজন। BAC-এর অ্যাক্রেডিটেশনের মানদণ্ড পূরণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় একাডেমিক নথিপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত ও সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রশিক্ষণের পরবর্তী অধিবেশনে ‘উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য অ্যাক্রেডিটেশনের গুরুত্ব’ বিষয়ে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, অ্যাক্রেডিটেশন একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার গুণগত মান ও একাডেমিক উৎকর্ষের গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। শিক্ষার মানোন্নয়নে সময়োপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন, শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন এবং তা যথাযথভাবে মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কারিকুলামের সঙ্গে সমন্বয় করা গেলে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন আরও বৃদ্ধি পাবে। CSE ও ICT বিভাগের মাধ্যমে মাভাবিপ্রবিকে দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একটি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে। BAC-এর মানদণ্ড অনুসরণ করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে মাভাবিপ্রবিকে একটি মানসম্মত ও আধুনিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রশিক্ষণে IQAC-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল নাসির ‘CLO/PLO সংশোধন ও CLO অর্জন নিশ্চিতকরণে মূল্যায়ন কৌশল’ এবং ‘কোর্স আউটলাইন প্রস্তুতি’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন। ‘BAC অ্যাক্রেডিটেশনের জন্য কারিকুলামের প্রয়োজনীয়তা’ বিষয়ে বক্তব্য দেন IQAC-এর অতিরিক্ত পরিচালক ড. শাহ আদিল ইশতিয়াক আহমদ। পরবর্তীতে তিনি ‘কোর্স আউটলাইন প্রস্তুতির হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ’ পরিচালনা করেন। এ ছাড়া IQAC-এর অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. খায়রুল ইসলাম ‘কোর্স ফাইল প্রস্তুত ও সংরক্ষণ’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।

প্রশিক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (CSE) এবং ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (ICT) বিভাগের শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন।

অ্যাক্রেডিটেশনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও সহায়তা, কোর্স আউটলাইন প্রস্তুতি, কোর্স ফাইল সংরক্ষণ, CLO/PLO সংশোধন, মূল্যায়ন কৌশল এবং গুণগত নিশ্চয়তা (QA) কার্যক্রমসহ BAC অ্যাক্রেডিটেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রশিক্ষণে আলোচনা করা হয়।

দুপুরে নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর কোর্স আউটলাইন প্রস্তুতের ওপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের শেষে প্রশ্নোত্তর ও গুণগত নিশ্চয়তা (QA) সেশন এবং সমাপনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।