সরকারি তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদ এবং মৌখিক পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে লিখিত পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর দাবিতে মানববন্ধন করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সরকার সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা না করলে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মৌখিক পরীক্ষায় ৫০ শতাংশ নম্বর রাখার সিদ্ধান্ত মেধাভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশ্ন তৈরি করবে। তাঁরা দ্রুত এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে লিখিত পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর দাবি জানান।

জাতীয় ছাত্রশক্তি ববি শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম ওয়াহিদুর রহমান বলেন, “সরকারি তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভাইভা বোর্ডে ৫০ শতাংশ নম্বর নির্ধারণের মাধ্যমে দলীয় পোষ্য ক্যাডার ও লেজুড়বৃত্তিক কর্মীদের নিয়োগ দেওয়ার একটি নীলনকশা চলছে। এর ফলে আমাদের ২০২৪ সালের কোটা আন্দোলনের অর্জন ব্যর্থ হতে চলেছে। আমরা এই স্বার্থপর সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষকেও এই নীলনকশার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানাই।”

জাতীয় ছাত্রশক্তি ববি শাখার আহ্বায়ক মোহাম্মদ বেলাল বলেন, “বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে আমরা দেখেছি, এমন কোনো সেক্টর নেই, যেখানে দলীয়করণ করা হয়নি। ২৪-এর পর আমরা ভেবেছিলাম, নতুন সরকার এই দলীয়করণের নীতি থেকে বেরিয়ে আসবে। কিন্তু আমাদের আশায় গুড়েবালি দিয়ে সরকার দলীয় অযোগ্য ব্যক্তিদের বিভিন্ন জায়গায় কাউন্সিলর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া শুরু করল। এর যুক্তি হিসেবে বলা হলো, সরকারকে কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা বলেছি, দেশের এই ভঙ্গুর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকারকে অবশ্যই কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া উচিত। কিন্তু বিএনপি সরকার সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সব ক্ষেত্রেই দলীয়করণ শুরু করে দেয়।

“এর মধ্যে নতুন আরেকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দেশের লাখ লাখ মেধাবীর মাথায় আঘাত করার শামিল। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগের মতো প্রতিটি সেক্টরে দলীয় লোক নিয়োগের বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকারকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে। এখানে কোনো অজুহাত চলবে না। ছাত্রদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে তাঁদের সঙ্গে বেইমানি করবেন না। এর ফল ভালো হবে না।”

মানববন্ধনে জাতীয় ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক শহিদুল ইসলাম শাহেদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান আল আমিনসহ সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ৬ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং এর আওতাধীন দপ্তর-সংস্থায় ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের (তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি) কর্মচারী নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সমান ৫০ নম্বর রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটি।