জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদ্‌যাপন উপলক্ষ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইতিহাস বিভাগের আয়োজনে 'ফিরে দেখা ছাত্র জনতার রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থান ২০২৪' শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বেলা ১১টায় এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

জবি ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. শহীদ কাদের চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদদীন। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমীন এবং জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) ড. মঞ্জুর মোর্শেদ ভূঁইয়া।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ।

A seminar titled 'Looking Back at the Bloody Student-People Mass Uprising of 2024' was held at JnU._16x9

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদদীন বলেন, চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হঠাৎ করেই সংঘটিত হয়নি, এর পেছনে ছিল দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী কাঠামোর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের অব্যাহত সংগ্রামের ইতিহাস। স্বৈরাচারী সরকারের অত্যাচার-নির্যাতন ও শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিণতি ঘটেছে ২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে, পরিণত হয়েছিল জনযুদ্ধে। তেমনিভাবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানও কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর অবদানে সফল হয়নি, বরং দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা এতে অংশগ্রহণ করেছিল।

এ ছাড়া জুলাই-পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী কাঠামো যেন বাংলাদেশে আর ফিরে আসতে না পারে, সেজন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমীন বলেন, সৃজনশীল কর্মসূচি প্রণয়ন ও কর্মসূচির নামকরণ জুলাই আন্দোলনের যুগান্তকারী একটি দিক। সর্বস্তরের মানুষকে এই আন্দোলনে যুক্ত করতে এসব ভিন্নধর্মী কর্মসূচি ও নামকরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

তিনি আরও বলেন, শুধু মিছিল, মিটিং ও সমাবেশ করে জুলাইয়ের চেতনা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এ ধরনের একাডেমিক আলোচনা, সিম্পোজিয়াম, সেমিনার আয়োজনের বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলের দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্যাতন-নিষ্পেষণের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার সম্মিলিত সংগ্রামের ফলেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক বিজয় সম্ভব হয়েছে। এ অভ্যুত্থান সফল করতে বাংলাদেশের মুক্তিকামী সকল সংগঠন, দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেছিল।

জাতীয় ছাত্রশক্তি জবি শাখার আহ্বায়ক মো. শাহীন মিয়া বলেন, বর্তমান সময়ে জুলাই আন্দোলনকে অনেকেই সূক্ষ্মভাবে কটাক্ষ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্যে আমাদের স্পষ্ট বার্তা হলো, ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী এই বিজয়কে ছোট করার পায়তারা কোনোভাবেই সফল হবে না।

জকসু সদস্য আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ফলে দেশের নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষ মুক্তি পেয়েছে। তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এখনও পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সব ধরনের বিভেদ ভুলে দল-মত নির্বিশেষে সম্মিলিতভাবে সবাইকে চেষ্টা করে যেতে হবে।

সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।