আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি)-এর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ হাসমত আলী বলেছেন, আমরা সবাই সবসময় শান্তিতে থাকতে চাই। কিন্তু অনেক সময় আমাদের নিজেদের আচরণই সেই শান্তি নষ্ট করে। ‘ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র’ সব পর্যায়েই মানুষ শান্তি প্রত্যাশা করে। তবে নিজেরাই অনেক সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি করি, যা সমাজ ও জীবনের শান্তিকে ব্যাহত করে। তাই সমাজে শান্তি বজায় রাখতে সবাইকে সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল হতে হবে। একই সাথে সমাজে সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতাও প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। এসব উপাদান নিশ্চিত করা গেলে সমাজে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। সুশাসনের অভাব হলে সমাজে অস্থিরতা তৈরি হয়। এর ফলে আন্দোলন, সহিংসতা, দমন-পীড়ন ও সংঘর্ষের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। ন্যায়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ নির্মাণ করা সম্ভব এবং এ লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘পিস গভর্ন্যান্স ফোরাম: শান্তি বাংলাদেশ ইনিশিয়েটিভ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হেভেনলি কালচার, ওয়ার্ল্ড পিস, রেস্টোরেশন অব লাইট গ্লোবাল থ্রি ব্রাঞ্চ’র আইপিওয়াইজি বিভাগের সমন্বয়ক জ্যাকব বে ও পিস এডুকেশন বিভাগের সমন্বয়ক বেনজামিন কিম। আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মহি উদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইন অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাইমুল আহসান খান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইন বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
‘পিস গভর্ন্যান্স ফোরাম: শান্তি বাংলাদেশ ইনিশিয়েটিভ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর আরও বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় আরেকটি বড় বাধা হলো আধিপত্য বিস্তারের মানসিকতা। যখন কেউ অন্যদের ওপর প্রভাব বিস্তার বা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, তখন তা সমাজের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে নষ্ট করে দেয়। তাই আমাদের ধৈর্যশীল, সংযত ও পরিমিত আচরণ করতে হবে এবং এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যা শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বর্তমানে বিশ্বে কিছু দেশ অন্য দেশের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত এবং কোথাও-কোথাও একটি দেশ অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে। এমনকি কোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। এসবের মূল কারণ হলো আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা। যখন কেউ অন্যদের ওপর নেতৃত্ব বা কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার মানসিকতা পোষণ করে, তখনই সংঘাত সৃষ্টি হয় এবং তা নানা সমস্যার জন্ম দেয়। তিনি আরও বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আমি এখানে উপস্থিত সবাইকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সৎ ও সঠিক পথে চলার আহ্বান জানাই, যাতে আমরা নিজেরা আমাদের সমাজে শান্তি বিনষ্ট না করি। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।