রাজধানীর তিতুমীর কলেজের হলে রাজনীতির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন সুফিয়া কামাল হল শাখার ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক শিখা আক্তার। তিনি বলেছেন, আমরা ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ হতে চাই।কলেজটিতে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন করে এ অবস্থানের কথা জানান ছাত্রদলের এই নেত্রী।
কলেজের হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি করায় তিন শিক্ষার্থীকে আবাসিক হল থেকে বহিষ্কারের ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর মধ্যেই সদ্য ঘোষিত ছাত্রদলের হল কমিটির কয়েকজন নেত্রী প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তারা হলে কোনো ধরনের রাজনৈতিক আধিপত্য চান না। একই সঙ্গে তারা নিজেদের পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আগে ছাত্রলীগ হলে আধিপত্য বিস্তার করত। তাই পূর্বের মতো যেন আর কেউ আধিপত্য বিস্তার করতে না পারে, সেজন্য আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছি। আমরা কোনো রাজনৈতিক আধিপত্য চাই না। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে থাকতে চাই।’
একই হলের ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে সরে দাঁড়ানো নায়িমা নাজনীন বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছিল, ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হবে, তুমি নাম দাও। আমি নিজের ইচ্ছায় নাম দিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের হলের অধিকাংশ শিক্ষার্থী রাজনীতি চায় না। তাই আমিও পদত্যাগ করেছি।’
এর আগে গত ৩ মে কলেজের সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রদলের ১১ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি ঘোষণার পর আবাসিক নারী শিক্ষার্থীরা ছাত্রীনিবাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানান। এ ঘটনার জেরে কলেজ প্রশাসন তিন শিক্ষার্থীর হলের সিট বাতিল করে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে রাত ১০টার দিকে হলের নারী শিক্ষার্থীরা তালা ভেঙে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
এদিকে কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, কোনো ধরনের সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়াই তিন শিক্ষার্থীর হলের সিট বাতিল করা হয়েছে। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, হলের সিট বাতিলের নোটিশে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।