ইসলামি আরবি বিশ্বদ্যিালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান বলেন, শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের মধ্যে সুসম্পর্ক ও আস্থা তৈরি করা প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাজ। প্রতিষ্ঠান প্রধান চাইলে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে একাডেমিক, প্রশাসনিক, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে পারেন। এক্ষেত্রে অধ্যক্ষকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থা ও সেতুবন্ধন সৃষ্টি করতে হবে। বৃহস্পতিবার সকালে ফাজিল (স্নাতক) ও কামিল (স্নাতকোত্তর) পর্যায়ের অধ্যক্ষগণের সাথে বিভাগ ভিত্তিক চারদিন ব্যাপী ভার্চূয়াল আলোাচনা সভার সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ট্রেজারার এ এস এম মামুনুর রহমান খলিলী। সভা সঞ্চালনা করেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ফাহাদ আহমদ মোমতাজী।
সভায় ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, অধ্যক্ষকে মাদরাসার সঠিকচিত্র সভাপতি ও গভর্নিং বডির কাছে তুলে ধরতে হবে, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য হোস্টেল চালু করতে হবে। হোস্টেল অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রুপ স্টাডির ব্যবস্থা করতে হবে। গরীব-অসহায়, অমনোযোগী, ঝরে পড়া, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব নিতে হবে শিক্ষকদের। মাদরাসার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এনটিআরসিএ কর্তৃক নিয়োগকৃত শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মাদরাসা শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল (সা:) কে খুশি করা। আপনাদের প্রতি আমার সনির্বন্ধ অনুরোধ, শিক্ষার্থী ধরে রাখার কৌশল তৈরি করেন, শিক্ষার্থীরা যেন তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় মনে করেন ক্লাস রুমকে এবং মাদরাসা শিক্ষার পাঠ গ্রহীতাকে তাদের জীবনের ইহকাল ও পরকালের স্বপ্ন পূরণ হিসেবে তাদের মনের মুকুটে প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে শ্রম বাজারে দক্ষ জনবল ও আন্তর্জাতিকভাবে দেশের রেমিট্যান্স বৃদ্ধির জন্য আরবি ভাষা ক্লাব গঠন করার আহবান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষা হচ্ছে আরবি ভাষা ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা, কুরআন হাদীস ও ইসলামী জ্ঞানের গভীরতা অর্জনে আরবি ভাষা শিক্ষার বিকল্প নেই তাই শিক্ষকদের উচিত শিক্ষার্থীদের আরবি ভাষার বেসিক মজবুত করার চেষ্টা করা। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে শিক্ষকদের আরবি ভাষা শিক্ষা প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে মর্মে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশেষ অথিতির বক্তব্য ট্রেজারার এ এস এম মামুনুর রহমান খলিলী বলেন, ফাজিল ও কামিল মাদরাসায় নকলমুক্ত পরিবেশে সকল পরীক্ষা আয়োজন করতে হবে। নকল প্রতিরোধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি পরীক্ষা কেন্দ্রে বিশেষ নজরদারি তথা সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেন।
মতবিনিময় সভায় ফাজিল ও কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষগণ শিক্ষর্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে করণীয় সংক্রান্ত বক্তব্যে বলেন, ভর্তির সংবাদ ব্যাপক ভাবে প্রচার করতে হবে, শিক্ষর্থী ও অভিভাবকদের উৎসাহিত করতে হবে। প্রথম থেকে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের টিফিন ভাতা, উপবৃত্তি প্রদান করতে হবে। কোয়ালিটি সম্পন্ন শিক্ষা ও মানবিক গুনাবলিতে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা। প্রেস বিজ্ঞপ্তি