'স্কুল ফিডিং' কর্মসূচির আওতায় কোমলমতি শিশুদের টিফিনের খাবার আত্মসাৎ করার প্রমাণ পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার চরমান্দালিয়া ইউনিয়নের ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাচ্চাদের টিফিন না দেয়ার অভিযোগ পেয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। সীমাহীন অনিয়ম ও চরম অবহেলার কারণে পুষ্টির বদলে দীর্ঘ সময় ক্ষুধার্ত থাকতে হয়েছে কয়েকশ শিশুকে। খাবার আসবে ভেবে খালি পেটে স্কুলে এসে শেষ পর্যন্ত ক্লান্ত-শ্রান্ত শরীরে পাঠে মন হারিয়েছে এই কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
সম্প্রতি মনোহরদী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে পরিচালিত এক সরেজমিন তদন্তে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আনীত এই গুরুতর অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্রÑবিগত জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি এবং এপ্রিল মাসে মোট ১৭ দিন কোনো খাবারই সরবরাহ করেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। তবু এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
তদন্তে যা পাওয়া গেছে : সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গাজী মোঃ শাহরাজ গত ২০ এপ্রিল স্কুলগুলো পরিদর্শন করেন। তার দাখিলকৃত প্রতিবেদনে দেখা যায়, জানুয়ারি মাসে ৫ দিন, ফেব্রুয়ারি মাসে ৭ দিন এবং এপ্রিল মাসে ৫ দিন কোনো খাবার দেয়নি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। অথচ নথিপত্রে স্কুল ফিডিংয়ের এই বিশাল অংকের টাকার বরাদ্দ রয়েছে।
ক্ষুধার্ত শিশুর দীর্ঘশ্বাস : তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, টিফিন দেওয়া হবে এই আশায় তারা বাড়ি থেকে কোনো খাবার নিয়ে আসে না। কিন্তু স্কুলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর খাবার না পেয়ে তারা ক্ষুধার্ত ও ক্লান্ত হয়ে পড়ে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্ষুধার যন্ত্রণায় শিশুরা ক্লাসে ছটফট করে এবং এক পর্যায়ে পড়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এতে সরকারের মূল লক্ষ্যÑশিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা ও উপস্থিতির হার বাড়ানোÑমারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ঠিকাদারের এই দুর্নীতির দায় এখন গিয়ে পড়ছে শিক্ষকদের ঘাড়ে। অনেক অভিভাবক মনে করছেন, শিক্ষকরাই হয়তো এই টাকা বা খাবার আত্মসাৎ করছেন। এর ফলে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের আস্থার সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং শিক্ষকদের ওপর বিভিন্ন দিক থেকে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ : উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ জোনায়েদ জানান, গত ২২ জানুয়ারি শিক্ষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে ঠিকাদারকে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তারা কর্ণপাত করেনি। গত ২৬ এপ্রিল উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালকের কাছে এই তদন্ত প্রতিবেদনটি পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনে অভিযুক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চুক্তি অনুযায়ী কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এখনো তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে তার ব্যবস্থা নেয়ার কোন ক্ষমতা নেই বলে তিনি জানান।