আশরাফুল হক, গনিত বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাদেশে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে নতুন ভোটারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। নতুন ভোটারদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি এবং তাদের মধ্যে শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিকের অংশও উল্লেখযোগ্য। তারা যদি ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার না দেয়, তবে রাজনৈতিক দলগুলো পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির প্রার্থী মনোনয়নে বাধ্য হবে। ভোট প্রদানের মাধ্যমে রাজনৈতিক জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হয়। ক্ষমতায় এসে কিংবা ক্ষমতার আশ্রয়ে চাঁদাবাজিতে জড়িত রাজনীতিবিদদের প্রত্যাখ্যান করলে অপরাধভিত্তিক রাজনীতির বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা যায়। বর্তমান প্রজন্ম প্রযুক্তিনির্ভর ও ডিজিটালি সক্রিয়। তারা চাঁদাবাজির ঘটনা তুলে ধরা, এ বিষয়ে আলোচনা সৃষ্টি করা এবং জনমত গঠনের মাধ্যমে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম। ভোট না দেওয়াও এক ধরনের সুযোগ সৃষ্টি করে। নতুন ভোটারদের উদাসীনতা পুরোনো দুর্নীতিগ্রস্ত চক্রকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। ফলে চাঁদাবাজি প্রতিরোধে সচেতনভাবে ভোট দেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পথ। এছাড়া, চাঁদাবাজি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সচেতন, সাহসী ও সক্রিয় নতুন ভোটারদের অংশগ্রহণও অপরিহার্য। তাদের ভোটই দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বাস্তব ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।