খুলনার একমাত্র মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের গতি অত্যন্ত ধীর। জমি অধিগ্রহণ এবং প্রাথমিক কিছু কাজ শুরু হলেও বড় ধরনের কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। প্রকল্পের প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান এবং বাজেট বরাদ্দে দীর্ঘসূত্রতার কারণে পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাস চালুর বিষয়টি ঝুলে আছে। বর্তমানে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে এর প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে, যা খুলনার চিকিৎসাশিক্ষার অগ্রগতির পথে বড় বাধা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, খুলনাবাসীর দীর্ঘ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন আইন পাস হয়। একই বছরের ৩ মে জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুর রহমানকে ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর সাত মাস পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি) পরিচালনার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মেহেদী নেওয়াজকে প্রকল্প পরিচালক করা হয়। আর উপ-প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. নুরুল মোমেনকে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। এতে স্থায়ী ক্যাম্পাস ও আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন ও মৌলিক অবকাঠামো নির্মাণে একটি খসড়া প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) ২০২৩ সালের মে মাসে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগে দাখিল করা হয়। ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্য ৫০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদন দেয় মন্ত্রণালয়। পরে বটিয়াঘাটা উপজেলায় ১ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে নকশা পরিবর্তন ছাড়া নানা কারণে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন পিছিয়ে যায়। ২০২৪ সালের ৯ মে একনেক সভায় কিছু শর্তসাপেক্ষে ডিপিপি অনুমোদিত হয়
খুলনা ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়টি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে কেবল আলোচনার টেবিলে এবং সমীক্ষাতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। লবণচরা এলাকায় ২০ একর জমি নির্ধারণ করা হলেও জমি অধিগ্রহণের পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া এবং বাজেট অনুমোদনের কাজ আশানুরূপ এগোচ্ছে না। সর্বশেষ তথ্যমতে, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হলেও একনেক সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হওয়া নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। ২০১০ সালে খুলনা নগরীর গোয়ালখালি এলাকায় তিনটি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করে খুলনার একমাত্র বিশেষায়িত হাসপাতাল। বর্তমানে এখানে ১১টি বিভাগ চালু রয়েছে। ৮৫ জন চিকিৎসক, ২০০ জন নার্স এবং ১০৩ জন সহায়ক কর্মচারী দিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ভাস্কুলার সার্জারি, বার্ন ইউনিট ও নিউরো মেডিসিন বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া সহায়ক কর্মচারীরও অভাব রয়েছে। তারপরও প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৫০০ থেকে ৬০০ রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ একটি সি-আর্ম মেশিন প্রায় এক বছর ধরে নষ্ট অবস্থায় রয়েছে। এই মেশিনের মাধ্যমে বিভিন্ন অপারেশন পরিচালিত হতো। মেশিনটি অচল থাকায় সংশ্লিষ্ট অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালে ২৮টি ডায়ালাইসিস মেশিন থাকলেও বর্তমানে সচল রয়েছে মাত্র ১৬টি। বাকি ১২টি মেশিন অচল থাকায় অর্ধেক রোগীকেই সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ডায়ালাইসিসের জন্য রোগীদের দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ২৫০ বেডের হাসপাতাল হলেও বর্তমানে চালু রয়েছে ২১৬টি বেড। বাকি ৩৪টি বেড অকেজো রয়েছে।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. আবু শাহীন বলেন, সীমিত সামর্থ্য দিয়ে খুলনার বিভাগের একমাত্র বিশেষায়িত হাসপাতালের সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
এ হাসপাতাল নিয়ে এ অঞ্চলের মানুষের চাহিদা অনেক। কিন্তু সীমিত সামর্থ্য দিয়ে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।