দেশের শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট বর্তমানে নেতৃত্ব সংকট, প্রশাসনিক অস্থিরতা, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং সিদ্ধান্তহীনতায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এমতাবস্থায় এগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অফ বাংলাদেশ সভাপতি প্রফেসর ড. মাহবুব ই ইলাহী তৌহিদ ও মহাসচিব কৃষিবিদ শেখ মুহাম্মদ মাসউদ এক যৌথ বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার এগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অফ বাংলাদেশ যুগ্ম মহাসচিব কৃষিবিদ ডা. মো: শহিদুল্লাহ শরীফ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট একটি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান যা ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় এ প্রতিষ্ঠান বিশেষ ভূমিকা রাখছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অনেক প্রথিতযশা বিজ্ঞানী মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করে প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে ধান গবেষণাকে দেশে বিদেশে সুনামের সাথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু গত ২ এপ্রিল ২০২৬ইং হতে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালকের পদ মাসাধিক কাল যাবৎ শূন্য থাকার পরেও কৃষি মন্ত্রণালয় উক্ত পদে কাহাকেও দায়িত্ব অর্পণ করেন নি।
তারা বলেন, আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে জেষ্ঠতা লংঘন করে পদোন্নতি প্রাপ্ত সিএসও ড. মুহাম্মদ আমিনুল ইসলামকে গত ৩ মে ২০২৬ মহাপরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর ফলে ব্রিতে আমিনুল ও পরিচালক রফিকুল ইসলাম গ্রুপের বিজ্ঞানী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের মধ্যে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ, অবস্থান, ধাক্কাধাক্কি এমনকি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গবেষণা বিভাগ, ল্যাব, দপ্তর ও বিজ্ঞানীদের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া। এতে স্বাভাবিক গবেষণা কার্যক্রম, ল্যাবভিত্তিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ফাইল নিষ্পত্তি এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। ফলশ্রুতিতে নজিরবিহীনভাবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের গবেষণা অনু বিভাগের অতিরিক্ত সচিব যিনি একজন অকৃষিবিদ এবং কৃষি গবেষণার সাথে কখনো সম্পৃক্ত ছিলেন না, তাকে মহাপরিচালক এর দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
তারা বলেন, ব্রি প্রতিষ্ঠার ৫৫ বছরের ইতিহাস ভেঙে বিজ্ঞানীদের বাহিরে কাউকে এমন দায়িত্ব প্রদান করা হলো। এর ফলে বিজ্ঞানী কর্মকর্তা কর্মচারী ও শ্রমিকদের মধ্যে গভীর হতাশা তৈরি হয়েছে।
তারা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পেশাদারিত্বই হওয়া উচিত মূল পরিচয়। তারা কর্তৃপক্ষের নিকট, জ্যৈষ্ঠতা, যোগ্যতা, অতীতের ভূমিকা এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিবেচনায় যোগ্য বিজ্ঞানীকে দ্রুত মহাপরিচালকের দায়িত্ব প্রদান করে গবেষণার সুষ্ঠ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।