চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) সিরাজগঞ্জ ক্যাম্পাসে অনিয়মিত শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ২৩ জন কর্মচারী গত ১৭ মাস ধরে বেতন না পেয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
জানা যায়, সিরাজগঞ্জ ক্যাম্পাস পূর্বে সিরাজগঞ্জ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ ছিল। ২০২৪ সালের জুন মাসে কলেজটি মাভাবিপ্রবির ভেটেরিনারি মেডিসিন এন্ড এনিম্যাল সাইন্স অনুষদ হিসাবে কর্মচারী সহ স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ কর্মচারীদের দিয়ে নিয়মিত কাজ করাচ্ছে এবং ২০২৪ সালের জুলাই হতে নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৫ মাসের বেতন প্রদান করে এবং চাকরি নিয়মিত করনের আশ্বাস দেয়। বেতন প্রদান ও চাকরি স্থায়ী করন করছে না সংশ্লিষ্টরা বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে কর্মচারীরা এই প্রতিষ্ঠানে ১৩ বছর ধরে চাকরি করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের ভিসি, রেজিস্ট্রার সহ উর্ধতন কর্মকর্তাদের বারবার অনুরোধ সহ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেও কোন সমাধান না হওয়ায় কর্মচারীরা হাইকোর্ট রিট দায়ের করে। মহামান্য হাইকোর্ট ২০২৫ সালের ১৭ ই ডিসেম্বর কর্মচারীদের বেতন প্রদান করার জন্য আদেশ প্রদান করে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সে আদেশ বাস্তবায়ন করছে না বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
এবিষয়ে কর্মচারী আব্দুস সাত্তার জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আমরা প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন পদে কর্মরত ছিলাম এবং নিয়মিত বেতন-ভাতা পেতাম।
২০২৪ সালে কলেজটি টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে হস্তান্তর করা হয়। তখন ৩৬ জন কর্মচারীসহ সমস্ত কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রথম পাঁচ মাস মাভাবিপ্রবি আমাদের বেতন দিলেও গত ১৭ মাস ধরে কোনো বেতন দিচ্ছে না। দ্রুত বেতন না পেলে আত্মহত্যা ছাড়া আমাদের সামনে কোনো পথ থাকবে না।
অন্য কর্মচারী কর্মচারী আশাদুল কবির বলেন, আমরা নিয়মিত কর্মচারী হয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আমাদের চাকরি বাতিলের চেষ্টা করছেন। আমরা প্রায় ১১ বছর ধরে কাজ করছি। চাকরি চলে গেলে পরিবার নিয়ে বাঁচব কিভাবে? তাই দ্রুত আমাদের চাকরি স্থায়ী করে নিয়োগপত্র প্রধান সহ দ্রুত বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানাচ্ছি। এ বিষয়ে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আনোয়ারুল আজীম আকন্দ বলেন, কলেজটিতে এক সময় আউটসোর্সিং এ কর্মরত ছিলো ৩৬ জন কর্মচারী। ইউজিসি ফান্ড বন্ধ করে দেওয়ায় বেতন বন্ধ হয়েছে। তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে কর্মচারীদের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ইতো মধ্যে কয়েকজনের চাকুরি হয়েছে।