বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়ায় অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্যের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রকাশিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি ঘিরে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সমালোচনার মুখে প্রকাশের প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয়ের ফেসবুক পেজ থেকে বিজ্ঞপ্তিটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২০ আগস্ট) রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয়ের ফেসবুক পেজে ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়ায় অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে জাবি উপাচার্যের অভিনন্দন' শিরোনামে বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়।

এতে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়ায় অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে উপাচার্য বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার সময়ে আপনার ওপর চরম নিপীড়ন, নির্যাতন ও কারাভোগ সত্ত্বেও বিএনপির প্রতি আপনার দায়-দায়িত্ব এবং দলের প্রতি আপনার ভালোবাসা সকলকে মুগ্ধ করেছে।’

একই সঙ্গে নতুন দায়িত্বে রিজভীর সর্বাত্মক সাফল্য কামনা করেন উপাচার্য।

তবে বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর সমালোচনা শুরু করেন শিক্ষার্থীদের একাংশ। তাঁদের প্রশ্ন, একটি স্বায়ত্তশাসিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকে দলীয় পদে দায়িত্ব পাওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন জানানো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।

শিক্ষার্থীদের সমালোচনার মুখে প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয়ের ফেসবুক পেজ থেকে বিজ্ঞপ্তিটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জাবি ছাত্রশক্তির সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, একটি স্বায়ত্তশাসিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন জানাতে পারেন কি না, সেটিই মূল প্রশ্ন।

তিনি বলেন, ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে কোনো রাজনৈতিক নেতাকে অভিনন্দন জানানো উপাচার্যের ব্যক্তিগত বা সৌজন্যমূলক সিদ্ধান্ত হতে পারে। কিন্তু সেটি কেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লেটারহেড ও জনসংযোগ কার্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তি হিসেবে প্রকাশ করা হবে, সে প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।

জিয়া উদ্দিন আয়ান আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন নয় এবং উপাচার্যও কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র নন। প্রশাসনিক পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় ব্যবহার করে কোনো দলীয় নেতাকে আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন জানানো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বাতন্ত্র্য ও স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের নেতার দলীয় পদে দায়িত্ব পাওয়াকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা জানানোর ক্ষেত্রে কোনো সরকারি বিধান, নীতিমালা বা প্রটোকল রয়েছে কি না। এমন কোনো বিধান বা নজির থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তা প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।