দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা: কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চরম শিক্ষক সংকট ও প্রশাসনিক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়নের মোট ১৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬২টিতেই দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে বিদ্যালয়গুলোতে বাড়ছে প্রশাসনিক জটিলতা ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে মাত্র তিন থেকে চারজন শিক্ষক দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বাধ্য হয়ে একজন সহকারী শিক্ষককে ‘ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক’ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভারপ্রাপ্তদের দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হওয়ায় তারা শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না। এছাড়া, সমপর্যায়ের একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করায় অনেক ক্ষেত্রেই অন্য শিক্ষকরা তার নির্দেশনা মানতে অনীহা দেখাচ্ছেন। এতে শিক্ষকদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হচ্ছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষা কার্যক্রমে। দীর্ঘদিন ধরে এই সংকট চলতে থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা। শাহিনুর আক্তার (ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, কাউয়াদি পশ্চিম) বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ে ২০১৪ সাল থেকে প্রধান শিক্ষক নেই। আমি ২০১৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণ করি। সহকারী শিক্ষক হিসেবে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কাজেই বেশি সময় দিতে হয়, এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।” মো. শাহাদাত হোসেন (ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, গাজীপুর উত্তর) বলেন “প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা রক্ষা কঠিন হয়ে পড়ছে।
শিক্ষাঙ্গন
দাউদকান্দিতে ৬২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চরম শিক্ষক সংকট ও প্রশাসনিক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।