কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নারী সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একাধিক বাড়িঘর, দোকানে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
এসময় কুমিল্লা বারের সাবেক এ্যানরোলমেন্ট সেক্রেটারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের মাসকরা ও বাতিসা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন। হামলা ও অগ্নিসংযোগের একাধিক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারীরা এলাকারী চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাং লিডার। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজীর একাধিক মামলা রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বাতিসা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীর বাড়িতে মাদক ও অনৈতিক কাজ চলছিল। গত বৃহস্পতিবার রাতে পাশ^বর্তী কনকাপৈত ইউনিয়নের মাসকরা গ্রামের মিয়াধন কৃষি জমি দেখা শেষে ওই বাড়িতে গেলে সোনাপুর গ্রামের যুবকরা বাড়ি ঘেরাও করে তাকে মারধর করে। যুবকদের অভিযোগ, মিয়াধন ও এক নারীকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করেছে। মিয়াধনকে মারধরের খবর শুনে মাসকরা থেকে ওই বাড়িতে ডাকাত প্রবেশ করেছে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। ঘোষণার জেরে স্থানীয়রা লাঠিসোঠা নিয়ে এগিয়ে এসে সোনাপুরের যুবকদের উপর আক্রমন করে। এতে সোনাপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম মাসুম গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার শেষে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। তার অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
এর জের ধরে আহত জাহিদুল ইসলাম মাসুমের বন্ধু ডলবা গ্রামের মোহাম্মদ রুবেল, মোঃ রানা ও ছাতিয়ানী গ্রামের ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে সোনাপুর, ডলবা, বসকরা, ছাতিয়ানী, শ্রীপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কিশোর গ্যাংয়ের ৬০-৭০ জন অস্ত্রধারী যুবক পাটানন্দী গ্রাম হয়ে মাসকরায় যায়। তাদের সাথে সোনাপুর গ্রামের একটি গ্রæপ একত্রিত হয়ে আক্রমন করে ছয়টি দোকান ও অন্তত ২০টি বাড়িঘর ভাংচুর করে। এ সময় তারা বেশ কয়েকটি খড়ের ছিনে অগ্নিসংযোগ করে। লুটপাট করা হয় হাঁস, মোরগসহ ঘরের মূল্যবান জিনিস। তাদের হামলায় কুমিল্লা বারের আইনজীবি মনির হোসেন পাটোয়ারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। হামলাকারীরা মুখোশ পরিহিত ও ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে মাসকরার লোকজন একত্রিত হয়ে সোনাপুর গ্রামের ছাদেক মিয়ার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এতে করে তাদের চারটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। বিকেল থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষটি রাত পর্যন্ত চলে। খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করে। সংঘর্ষে ছাদেক মিয়ার পরিবারের চারটি ঘর পুড়ে যাওয়ায় বর্তমানে তারা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে স্থানীয়রা জানায়।
জানা যায়, হামলাকারী সহোদর ভাই রুবেল ও রানা চৌদ্দগ্রামের কিশোর গ্যাং লিডার। রুবেল ছাত্রলীগের পদধারী নেতা। ৫ই আগষ্টের পরবর্তী সময়ে নাশকতার অভিযোগে গ্রেফতার হয় সে। অপর ভাই স্থানীয় যুবদলের রাজনীতির সাথে জড়িত। তার বিরুদ্ধে ভাংচুর, লুটপাট, চাঁদাবাজিসহ নানান অভিযোগে অন্তত ৪-৫টি মামলা রয়েছে চৌদ্দগ্রাম থানায়। এছাড়াও সহোদর দুই ভাই আইনজীবির চেম্বার ভাংচুরের ঘটনায় দায়েরকৃত দ্রুতবিচারের মামলারও আসামী।
চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মেহেদী হাসান বলেন, ‘খবর পেয়ে দ্রæত ঘটনাস্থলে পৌঁছি। এরআগেই আগুনে ঘর ও খড়ের ছিন পুড়ে ছাই হয়ে যায়’।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন বলেন, ‘সোনাপুর ও মাসকরার দফায় দফায় সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে করে কিছু বাড়িঘর পুড়ে যায়। ভাংচুর করা হয় একাধিক ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি’।