রাজধানীর পল্লবীতে তোলপাড় সৃষ্টি করা ৭ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও গলাকেটে হত্যার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা (৩৪)। গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার জবানবন্দী রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। এদিকে পাশবিক এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামি ছাত্রশিবির শিবিরসহ দেশের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।

পুলিশ জানিয়েছে, সোহেল রানা স্বেচ্ছায় জবানবন্দী দিতে সম্মত হওয়ায় আদালতে তা রেকর্ডের আবেদন করা হয়। সেই সঙ্গে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে আটক রাখারও আবেদন করা হয়। এর আগে সোহেল রানাকে ১০ দিনের রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করা হয়। তবে এর মধ্যেই তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিতে রাজি হন। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে হাজতখানা থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে সোহেল রানাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে হাজির করা হয়। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন বলেও পুলিশের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রেফতার স্বপ্না আক্তার দাবি করেন, তিনি ঘটনার সময় ঘুমিয়ে ছিলেন এবং কিছুই জানেন না। তবে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ তার বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

আসামীকে আনতেই আদালত চত্বরে উত্তেজনা

পল্লবী এলাকায় সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তার হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হলে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে তার শাস্তি দাবি করেন। গতকাল বুধবার সোহেল রানাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়। আদালতে আনার সময় অনেকে উচ্চস্বরে স্লোগান দিয়ে তার সর্বোচ্চ শাস্তি, এমনকি ফাঁসির দাবিও জানান। এদিন বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে সোহেল রানাকে আদালতে তোলা হয়। পরে বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য পাঠানো হয়।

খাটের নিচে শিশু রামিসার লাশ, বাথরুমে মাথা

এদিকে শিশু রামিসা আক্তার হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীটির দাবি, মূল অভিযুক্ত স্বামী জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানাকে পালানোর সুযোগ করে দিতেই দীর্ঘ সময় ফ্ল্যাটের দরজা বন্ধ রাখেন স্ত্রী স্বপ্না। জাকির জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার পর দরজা খোলা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম মঙ্গলবার রাতে সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানান। পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ৭ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির তিন তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে রামিসার খ-িত লাশ উদ্ধার করা হয়। শিশুটিকে হত্যার পর তার মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। বিচ্ছিন্ন মাথা শৌচাগারে পাওয়া যায়। শিশুটির শরীরের মূল অংশটি পাওয়া যায় খাটের নিচ থেকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীটি জানায়, নৃশংস এ হত্যাকা-ের মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেফতার করা হয়। জাকির রিকশা মেকানিক হিসেবে কাজ করত এবং তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, নিহত রামিসার পরিবার ওই ভবনে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বসবাস করলেও অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে উল্টো দিকের ফ্ল্যাটে ভাড়া আসেন। ঘটনার দিন সকালে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তার মা ওই দম্পতির ফ্ল্যাটের দরজার সামনে মেয়ের স্যান্ডেল দেখতে পান। সাংবাদিক সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, রামিসার মা যখন দরজায় কড়া নাড়ছিলেন, তখন ভেতরেই হত্যাকা-টি ঘটছিল। মূল অভিযুক্ত যাতে পালাতে পারে, সেই সুযোগ করে দিতেই স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ রাখেন বলে পুলিশের ধারণা। পরে জাকির জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় এবং এরপরই দরজা খোলা হয়। পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভিকটিমের সঙ্গে যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আলামত সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত চলমান। এ ছাড়া প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অপরাধ গোপন ও লাশ সরিয়ে ফেলার উদ্দেশ্যে আসামী লাশ খ-বিখ- করার চেষ্টা করেছিল; কিন্তু ভিকটিমের মা বিষয়টি টের পেয়ে যাওয়ায় সে তার পরিকল্পনা সম্পূর্ণ করতে পারেনি এবং পালিয়ে যায়। হত্যাকা-ের পর ফ্ল্যাট থেকে স্বপ্নাকে আটক করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের একটি দোকান থেকে বিকাশে বন্ধুর মাধ্যমে পাঠানো টাকা তোলার সময় মূল অভিযুক্ত জাকিরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রামিসা আক্তার স্থানীয় পপুলার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবার নাম আবদুল হান্নান মোল্লা। তিনি একটি রিক্রুটিং এজেন্সিতে চাকরি করেন। মায়ের নাম পারভীন আক্তার। তাদের দুই মেয়ের মধ্যে রামিসা ছোট। বড় মেয়ে রাইসা আক্তার স্থানীয় একটি স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ে। পরিবারটি প্রায় ১৭ বছর ধরে পল্লবীর মিরপুর-১১ নম্বরের সেকশনের বি ব্লকের ৭ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির তিনতলার উত্তর পাশের ফ্ল্যাটে বসবাস করছে।

জামায়াত আমীর:

শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘প্রিয় সোনামনি রামিসা, তোমার কাছে মানবতা লজ্জিত। গতকাল বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে হত্যাকা-ের দ্রুত বিচার দাবি করে জামায়াত আমীর বলেন, ‘তুমি নিষ্পাপ ছিলে। তুমি এখনো বৃন্ত থেকে পুরোপুরি ফোটোনি। তুমি ছিলে তোমার মা-বাবা ও বোনের চোখজুড়ানো হৃদয়ের আবেগ ও ভালোবাসামাখা ভবিষ্যতের এক অপূরণীয় স্বপ্ন।’ তিনি বলেন, ‘তুমি চলে গেছ- তোমার চলে যাওয়াটা হায়েনার লালসার কাছে হার মানেনি। ওই হায়েনাটাই চিরদিন লানতের পাত্র হয়ে থাকবে। আমরা এই নৃশংস হত্যাকা-ের বিচার এবং এই নরপশু হত্যাকারীর শাস্তি অতি দ্রুত দেখতে চাই। আল্লাহ তা’আলা রামিসাকে জান্নাতের পাখি হিসেবে কবুল করুন। তার পিতা-মাতা, বোন এবং আপনজনকে ধৈর্য ধরার তাওফিক দিন। আমিন।’

সেলিম উদ্দিন

রাজধানীর পল্লবীতে নির্মমভাবে খুন হওয়া শিশু রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। গতকাল দুপুরে নিহত রামিসার বাসায় গিয়ে শোকার্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ান তিনি। পরে সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই হত্যাকা-কে আইয়ামে জাহেলিয়াতের বর্বরতার সঙ্গে তুলনা করে, অপরাধীদের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান এই জামায়াত নেতা। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সেলিম উদ্দিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, রামিসা হত্যার বিচার নিয়ে কোনো ধরনের ছলচাতুরি বা কালক্ষেপণ মেনে নেওয়া হবে না। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট টাইমলাইন তৈরি করে দ্রুততম সময়ে খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি তথা ফাঁসি কার্যকর করার জোর দাবি জানান তিনি।

ছাত্রশিবির

দ্বিতীয় শ্রেণির কোমলমতি শিক্ষার্থী শিশু রামিসা আক্তারকে নির্মমভাবে যৌন নির্যাতন ও বিকৃত উপায়ে হত্যার পৈশাচিক ঘটনায় তীব্র নিন্দা এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। গতকাল বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ দাবি জানান। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারের ওপর সংঘটিত এই অমানবিক ও নৃশংস বর্বরতার ঘটনা পুরো জাতিকে স্তম্ভিত করেছে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে বিকৃত যৌন নির্যাতনের পর অপরাধ ধামাচাপা দিতে তার লাশ খ-িত ও গুম করার চেষ্টা করা হয়। এই পাশবিক কর্মকা- কোনো সুস্থ ও সভ্য সমাজের চিত্র হতে পারে না। এই লোমহর্ষক ঘটনা প্রমাণ করে যে দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও নৈতিক অবক্ষয় কোন্ চরম স্তরে পৌঁছেছে।”

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ চলমান আইনশৃঙ্খলার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “রামিসার হত্যাকা- কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বিগত কয়েক মাসে দেশজুড়ে নারী ও শিশু নির্যাতন চরম আকার ধারণ করেছে। অতি সম্প্রতি সিলেটে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা, নেত্রকোনায় ১১ বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতন এবং নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় ১৫ বছরের কিশোরীকে অপহরণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা দেশবাসীকে স্তব্ধ করেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসেই ৭৭৬ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে এবং অন্তত ৮১ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। উপরন্তু, এসব মামলার মাত্র ৩ শতাংশের কম অপরাধীর সাজা হওয়া প্রমাণ করে দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি কতটা জেঁকে বসেছে। ঘরে-বাইরে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে—কোথাও আজ আমাদের মা-বোন ও শিশুরা নিরাপদ নয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব যাদের, সেই সরকার ও প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে চরমভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।”

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তি না হওয়া, রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় এবং বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সরকার ও প্রশাসনের উদাসীনতার কারণেই ধর্ষক ও খুনিরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে রামিসাদের মতো নিষ্পাপ শিশুদের। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আইনশৃঙ্খলার এই নাজুক পরিস্থিতি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির দায় সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।

নেতৃবৃন্দ অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানাসহ এই নৃশংস হত্যাকা-ের সাথে জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। একই সাথে তাঁরা নিহত শিশু রামিসার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং দেশে নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ সমাজ গড়তে সর্বস্তরের জনতাকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

দেশে ক্রমবর্ধমান শিশু নির্যাতনের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের উদ্বেগ

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। হত্যাকারী পাশের ফ্ল্যাটে থাকা এক দম্পতি এই ঘৃণ্য কাজ করার পর লাশ গুম করার চেষ্টা করেছিল। এ ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন সোহেল রানা এবং তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তারের পর এ কথা জানিয়েছে পুলিশ। এই নৃশংস,অমানবিক ও পৈশাচিক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগীয় সেক্রেটারী নূরুন্নিসা সিদ্দীকা।

তিনি বলেন,একটি শিশু, যে ছিল পরিবারের স্বপ্ন, সমাজের ভবিষ্যত-তাকে এভাবে হত্যা করা শুধু একটি পরিবারের নয়, সমগ্র জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। এ ধরণের ঘটনা প্রমাণ করে সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে এবং শিশু ও নারীর নিরাপত্তা আজ মারাত্মক হুমকির মুখে।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশে শিশু ও নারী নির্যাতন ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, গত নয়দিনে পাঁচ শিশু হত্যার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে চারজনই ধর্ষনের শিকার। ধর্ষণ ও হত্যার মত জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি সমাজে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অপরাধীদের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে দ্রুত গ্রেফতার,নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগ এই দাবি জানাচ্ছে যে দোষীকে দ্রুত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার,সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতকরণ এবং সারাদেশে নারী ও শিশু নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।

সেইসাথে রামিসার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি।