নরসিংদী সংবাদদাতা
মব সৃষ্টি করে একজন স্বনামধন্য অধ্যক্ষের উপর সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে একদল সন্ত্রাসী। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল রোববার সকালে রায়পুরা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সরকারি আদিয়াবাদ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে। আর হামলার শিকার হয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ নূর সাখাওয়াত হোসেন। ইতিপূর্বে সাংবাদিকরাও একই সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলার শিকার হয়েছিলো।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানান, অধ্যক্ষ নূর সাখাওয়াত হোসেন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কলেজে উপস্থিত হয়ে দাপ্তরিক কাজ করছিলেন। এসময় এলাকার আমজাদ হোসেন এর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী অতর্কিত কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে এবং তারা অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় অধ্যক্ষকে গালিগালাজ করতে থাকে। এক পর্যায় অধ্যক্ষের উপর হামলা চালিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। সন্ত্রাসীরা অধ্যক্ষকে টেনে হেঁচড়ে অফিস কক্ষ থেকে বের করে বারান্দায় এনে এলোপাথারি কিলঘুষি মেরে লাঞ্ছিত করে। এ সময় কলেজের অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মচারীগণ এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা অধ্যক্ষকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। খবর পেয়ে রায়পুরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার পর থেকে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এব্যাপারে অধ্যক্ষ নূর সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এলাকার আমজাদ হোসেন, নাজমুল হোসেন বাদল, আব্দুল জলিল, জুয়েল, আল আমিন, মিল্লাত ভূইয়া, হাসনাত ভূইয়ার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী অফিস কক্ষে ঢুকে তার নিকট মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে কিছু বুঝে উঠার আগেই সন্ত্রাসীরা আমার উপর হামলা চালায়। এসময় কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীগণ এগিয়ে আসতে থাকলে সন্ত্রাসীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। এব্যাপারে রায়পুরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করার ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তাকে দেখা যায়, টেনে হেঁচড়ে বারান্দায় এনে কয়েকজন সন্ত্রাসী অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করছে।
এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেনকে স্বপদে বহাল রাখার দাবিতে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে অভিভাবক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা একটি মানবন্ধনের আয়োজন করে। মানববন্ধন চলাকালে আমজাদ হোসেন ও নাজমুল হোসেন বাদলের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে নারী অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় গালাগালি শুরু করেন এবং হাতে থাকা ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করেন। এঘটনার ফুটেজ সাংবাদিকরা সংগ্রহ করতে গেলে উল্লেখিত সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের উপর হামলা চালায়।
অভিযুক্ত আমজাদ হোসেন ও নাজমুল হোসেন বাদলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও ওনারা ফোন রিসির্ভ করেননি।
এব্যাপারে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।