সাতক্ষীরার শ্যামনগরে অনিমেষ পরমান্য (৫০) নামে এক কৃত্রিম প্রজনন (এআই) কর্মীকে অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে দুষ্কৃতিকারীরা। শনিবার (২ মে) সকাল ১০টার দিকে রোগী দেখার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় তার ভাই প্রিয়নাথ পরমান্য শ্যামনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
নিখোঁজ অনিমেষ উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের বৈশখালী গ্রামের মৃত নিতাই পরমান্যের ছেলে এবং স্থানীয়ভাবে কৃত্রিম প্রজনন কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ১০টার দিকে রোগী দেখতে বাড়ি থেকে বের হন অনিমেষ। দীর্ঘ সময় তার কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে অনিমেষের মোবাইল নম্বর থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি কল দিয়ে তাকে জিম্মি করার কথা জানায় এবং মুক্তিপণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা দাবি করে। একই সঙ্গে বিষয়টি গোপন রাখার জন্য পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, রাত ১০টার দিকে শ্যামনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর পুলিশ রাতেই উপজেলার সুন্দরবন বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। তবে এখনো পর্যন্ত অপহৃত অনিমেষকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে অনিমেষের ভাইপো সুব্রত পরমান্য জানান, রোববার একটি জমি ক্রয়ের জন্য দিনক্ষণ নির্ধারিত ছিল। প্রায় ২২ লাখ টাকার ওই জমির দলিল সম্পন্ন করতে শনিবার অনিমেষের শ্যামনগর সদরে যাওয়ার কথা ছিল। জমি ক্রয়ের জন্য সংরক্ষিত অর্থ হাতিয়ে নিতেই তাকে অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে বলে পরিবারের ধারণা।
অন্যদিকে, জমি ক্রয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট খলিল হোসেন জানান, তারা তিনজন মিলে সাড়ে ২২ লাখ টাকায় একটি জমি কেনার পরিকল্পনা করেছিলেন। স্থানীয় দালাল আমানত গাজীর মাধ্যমে শনিবারের মধ্যে দলিলের খসড়া চূড়ান্ত করার কথা ছিল। তবে অপহরণের ঘটনায় নির্ধারিত সময়ে রেজিস্ট্রি সম্ভব হয়নি। তিনি এ ঘটনায় নিজের কোনো সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন।
উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বিশ্বাস বলেন, অনিমেষ পরমান্য কৈখালী ইউনিয়নের কৃত্রিম প্রজনন কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার নিখোঁজ হওয়ায় সহকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. খালেদুর রহমান জানান, পরিবারের কাছে আসা ফোনকলের লোকেশন শনাক্ত করে শনিবার দিবাগত রাত ৩টা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় একটি পরিত্যক্ত বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সব সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে নিখোঁজের রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।”