জিয়ানগর (পিরোজপুর) সংবাদদাতা: পিরোজপুরের জিয়ানগরে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগে এক ভুয়া চিকিৎসক ও তার সহযোগীকে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় একজনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অপরজনকে ৯০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ইউএনও হাসান মো. হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে উপজেলার সরকারি ইন্দুরকানী কলেজ মোড় সংলগ্ন একটি বাসায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, এম. এ. আকবর ও রতন কুমার শীল। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রি ছাড়াই এম. এ. আকবর দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। তিনি ‘ঢাকা হোমিও ক্লিনিক’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টিউমার, ক্যান্সার, বন্ধ্যাত্ব, হৃদরোগ, হার্ট ব্লক, কিডনি ও পিত্তথলির পাথরসহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসা দিচ্ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, আকবর ‘কোয়ান্টাম রেজোন্যান্স ম্যাগনেটিক অ্যানালাইজার’ নামের একটি ডিভাইস ব্যবহার করে ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতেন। একই সঙ্গে অনুমোদনবিহীন হোমিও ওষুধ দিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার মাধ্যমে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছিল।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মো. হাফিজুর রহমান জানান, অভিযানে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে আসামিরা দোষ স্বীকার করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত এম. এ. আকবরকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং রতন কুমার শীলকে ৯০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
ইউএনও আরও জানান, রতন কুমার শীল গ্রামের সহজ-সরল মানুষদের গ্রিন কার্ডের মাধ্যমে বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগেও জড়িত ছিলেন। এর প্রমাণও পাওয়া গেছে।
অভিযানকালে জিয়ানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. পারভীন, ইন্দুরকানী থানা পুলিশের সদস্য ও স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও প্রতারণা প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।