পাইকগাছা খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। গত জানুয়ারিতে পরিবেশ অধিদফতর মাত্র তিনটি ভাটা আংশিক গুঁড়িয়ে দিলেও রহস্যজনক কারণে বাকি ৯টি ভাটার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে উচ্ছেদ অভিযান থেকে বেঁচে যাওয়া ভাটা মালিকরা এখন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

অভিযানের নামে ‘আইওয়াশ’?

জানা গেছে, গত ২১ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদফতর ও উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে চাঁদখালীর গড়েরডাঙ্গায় অভিযান চালিয়ে এডিবি ভাটা, বিবিএম ভাটা এবং স্টার ভাটার চিমনি ও বিপুল পরিমাণ কাঁচা ইট গুঁড়িয়ে দেয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক হারুন-অর-রশীদ এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ছিলেন ইউএনও ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বী। ওই সময় জানানো হয়েছিল, উপজেলার বাকি অবৈধ ভাটাগুলো পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে। কিন্তু আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও অদৃশ্য কারণে সেই অভিযান আর আলোর মুখ দেখেনি।

জলাশয় ও কৃষিজমি গিলে খাচ্ছে ভেকু

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ১৬টি ইটভাটার অধিকাংশেরই কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই। দিনের বেলায় লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকলেও মধ্যরাত থেকেই শুরু হয় ধ্বংসযজ্ঞ। ভেকু মেশিন দিয়ে সরকারি খাস জমি ও উর্বর কৃষিজমির মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে ভাটায়। এছাড়া কয়লার পরিবর্তে অবাধে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ, যা স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

‘প্রশাসনকে ম্যানেজ’ করার দম্ভোক্তি

ভাটা মালিকদের বক্তব্যে উঠে এসেছে চরম ঔদ্ধত্য। চাঁদখালীর এমবিএম ব্রিকসের মালিক শফিকুল ইসলাম সরাসরি দাবি করেন, “প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই ভাটা চালাচ্ছি।” অন্যদিকে খান ব্রিকসের মালিক বাদশা খানের মন্তব্য আরও বিষ্ফোরক— “কাগজপত্র দিয়ে কী হবে? কিছু টাকা জরিমানা দিলেই তো সব সমস্যার সমাধান।” মালিকদের এমন বক্তব্যে স্পষ্ট যে, নামমাত্র জরিমানা তাদের অবৈধ ব্যবসা থামানোর পরিবর্তে বরং আরও উৎসাহিত করছে।

অভিযুক্ত ভাটাগুলোর তালিকা

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, লাইসেন্সবিহীন ও পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে:

হরিঢালীর যমুনা ব্রিকস-১ ও ২ (মজিদ মোড়ল)

গদাইপুরের ফাইভ স্টার ব্রিকস ও এফএফবি ব্রিকস

চাঁদখালীর এসএমবি ব্রিকস, বিএকে ব্রিকস, খান ব্রিকস, এসএম ব্রিকস

এছাড়া বিবিএম, এডিবি, এমএসবি, এসবিএম ও এমবিএম ব্রিকস।

দায় এড়ানোর খেলা

অভিযান থমকে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বী বলেন, “বিষয়টি মূলত পরিবেশ অধিদফতরের। তারা যখন পদক্ষেপ নেবে, আমরা কেবল তখন সহযোগিতা করতে পারি।” প্রশাসনের এমন রশি টানাটানির সুযোগে অবাধে চলছে ফসলি জমি ধ্বংসের উৎসব।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত এই ৯টি অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পাইকগাছার কৃষি জমি ও পরিবেশ অচিরেই অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।