ভূমিদস্যু ও জবরদখলকারীদের হামলা, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং পরিবারের নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন চট্টগ্রাম সরকারি হাজী মোহাম্মদ মহসিন কলেজের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল সাদেক। সোমবার সকাল ১১টায় নগরের একটি রেস্তোরাঁয় এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। লিখিত বক্তব্যে সাদেক অভিযোগ করেন, মুনিরিয়া যুব তবলীগ কমিটির প্রধান মুনিরুল্লাহ ও তার বাহিনীর হামলার শিকার হয়েছেন তিনি ও তার পরিবার।
আবদুল্লাহ আল সাদেক জানান, তিনি ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর শাখার সাথী এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তার বাবা মাওলানা জামাল হোসাইন জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলার শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ৯ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে বায়েজিদ থানার অক্সিজেন এলাকায় তাদের বাসায় মুনিরুল্লাহর ক্যাডাররা হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উল্টো তাকে বানোয়াট মামলায় গ্রেপ্তার করে। পরে বাসা থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও নারীদের হেনস্তা করে লুটপাট করা হয়। এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল থানায় অভিযোগ দিলেও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার বাবা জামাল হোসাইন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক। রাজনৈতিক কারণে তাকে ১৩ বছর ৪ মাস চাকরি থেকে বরখাস্ত রাখা হয়েছিল। ২০১২ সালে রাউজান পৌরসভার একটি মসজিদের খতিবের দায়িত্ব থেকেও বিনা নোটিশে সরিয়ে দেওয়া হয়।
সাদেকের দাবি, মুনিরুল্লাহর বাহিনী গত ৪ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে কাগতিয়া মাইজপাড়া তালীমুল কুরআন মাদ্রাসা দারুল ইয়াতামা দখল করে। এ ছাড়া গত কয়েক বছরে এলাকার অন্তত পাঁচটি পুকুর ভরাট, ৩৪৯ শতক নাল জমি দখল এবং মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মুছার স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুরের সঙ্গেও তারা জড়িত।
তিনি বলেন, বসতভিটা বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় এবং দখলবাজির প্রতিবাদ করায় তাদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। তার প্রবাসী বড় ভাই আল-আমিন সাব্বিরকেও মামলায় জড়ানো হয়েছে, যদিও তিনি তখন বিদেশে ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাদেক পরিবারের নিরাপত্তা, দখলকৃত মাদ্রাসা ও জমি ফেরত এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। তিনি বলেন, প্রশাসনের সহযোগিতা না পাওয়ায় আইজিপি ও চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ দেয়া হয়েছে।