রাজধানীর গুলশানে এক শিল্পপতির ফ্ল্যাট দখলের সময় তার স্ত্রী-সন্তানদের মারধর, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দুই ছেলেসহ চারজনের জামিন বাতিল করে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ গতকাল বুধবার এ আদেশ দেন। গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দুই ছেলে সামির কাদের চৌধুরী ও শাকির কাদের চৌধুরী, মেরিনা ইরশাদ এবং আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন বিচারক। চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের এমপি, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীও এ মামলার আসামী।

বাদীপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন জুয়েল বলেন, গতকাল মামলার ধার্য তারিখ ছিল। আসামীরা ধার্য তারিখ পর্যন্ত জামিনে ছিল। ১৫ আসামীর মধ্যে ৯ জন আদালতে হাজিরা দেন। গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং তার নিরাপত্তারক্ষী রাকিব চৌধুরী সংসদ অধিবেশনের কারণে আদালতে হাজির হতে পারেননি। অপর চার আসামী সামির কাদের চৌধুরী, শাকির কাদের চৌধুরী, মেরিনা ইরশাদ এবং আশিকুর রহমান চট্টগ্রামে থাকায় আদালতে আসেননি। তিনি বলেন, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং তার নিরাপত্তারক্ষী রাকিব চৌধুরীর সঙ্গত কারণে আদালতে না আসায় আবেদনের বিরোধিতা করিনি। তবে অপর চার আসামীর জামিন বাতিলের আবেদন করি। আদালত চার আসামীর জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

প্রয়াত শিল্পপতি মাইনুল ইসলামের স্ত্রী ফারজানা আন্না ইসলাম গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গুলশানের মডেল টাউন এলাকায় ছয় তলা ভবন নির্মাণে সামসুল আলামিন রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের প্রোপ্রাইটার আরেফিন সামসুল আলমের সঙ্গে ২০০৬ সালে মাইনুল ইসলাম ও ফারজানা আন্না ইসলাম দম্পতির চুক্তিপত্র করেন। ২০০৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর তারা বাড়ি বুঝে পান। পরের বছর ২০০৮ সালের ২৪ মার্চ মারা যান মাইনুল ইসলাম। তার মৃত্যুর পর সামসুল আলম অন্য আসামিদের নিয়ে ফ্ল্যাট দখলের চেষ্টা করতে থাকেন। আসামিরা জাল দলিল তৈরি করে বাড়ির দ্বিতীয় তলার সম্পূর্ণ ফ্লোর দখলের চেষ্টা করেন।

অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানের পর আসামীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। গতবছর ১৪ জুলাই তারা ওই বাড়িতে প্রবেশ করে ফ্ল্যাটগুলোর তালা ভেঙে দখল করার চেষ্টা করে। তারা ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। ফারজানা আন্না ইসলামকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। গত ২৮ অগাস্ট আবারও তারা বাসায় প্রবেশ করে হামলা চালিয়ে বাসার লোকজনকে আহত করেন। তারা ১০ লাখ টাকা, ১০ ভরি স্বর্ণের জিনিসপত্র নিয়ে যান। ৫ কোটি টাকা না দিলে ফ্ল্যাটগুলো দখল করে নেওয়ার হুমকি দেন। চলে যাওয়ার সময় আসামিরা বাসার নিচে গ্যারেজ ভাঙচুর করে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি করেন। হামলায় আহতরা পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

মামলা হওয়ার পর অভিযোগ অস্বীকার করে গিয়াস কাদের চৌধুরীর বড় ছেলে সামির কাদের চৌধুরী সংবাদ মাধ্যমকে বলেছিলেন, এটা পুরোপুরি বানোয়াট মামলা। গত সাড়ে চার বছরে এমনকি আজকে পর্যন্ত কখনও আমরা ওই ভবনের ধারে কাছে যাইনি। এই নারীর বিরুদ্ধে ১০ দিন আাগে থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে।