সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই-ঢাকার পরিদর্শক মো: তরিকুল ইসলামকে আজ সোমবার কুমিল্লার আদালতে তলব করা হয়েছে।

নতুন করে তনু হত্যার বিচারের আশার আলো দেখছে তার পরিবার। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই-ঢাকার পরিদর্শক মো: তরিকুল ইসলামকে সোমবার কুমিল্লার আদালতে তলব করা হয়েছে। মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে সম্প্রতি কুমিল্লার সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে পিবিআইকে চিঠি দেয়ার পরই সোমবার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে মামলার তদন্তের বিষয়ে আদালতকে লিখিত ব্যাখ্যা দেয়ার কথা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই-ঢাকার পরিদর্শক মো: তরিকুল ইসলাম।

সবশেষ গত বছরের ৭ এপ্রিল বিকেলে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ওই তদন্ত কর্মকর্তা। পিবিআইয়ের তদন্ত টিম মামলার বাদি তনুর বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেনের সাথে তার অফিসে গিয়ে কথা বলেন। পিবিআই পরিদর্শক মো: তরিকুল ইসলাম এ মামলার ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘আদালত মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। কিন্তু এখনই মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) কিংবা ফাইনাল রিপোর্ট (চূড়ান্ত প্রতিবেদন) দেয়া হচ্ছে না। আদালতে এসে মামলার তদন্তের কিছু বিষয়ে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরব। এখন এর বেশি কিছু আর মন্তব্য করা যাচ্ছে না।’ এর আগে ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুরুতে থানা-পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। সবশেষ পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দফতরে হস্তান্তর করে সিআইডি।