চট্টগ্রামে ইউসিবিএলের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ আসামীর বিরুদ্ধে আরও সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এ নিয়ে মামলাটিতে মোট ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো।
মঙ্গলবার (৫ মে) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে এসব সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। আদালত আগামী ২০ মে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন জানান, মঙ্গলবার দুদকের পক্ষ থেকে সাতজন সাক্ষী আদালতে হাজির করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণের পাশাপাশি তাদের জেরাও সম্পন্ন হয়েছে। মামলাটিতে এখন পর্যন্ত ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার প্রধান আসামীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রী ও ইউসিবিএলের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী ও রোকসানা জামান চৌধুরী। এছাড়া ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান, পরিচালক, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাবেদের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও আসামী করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মালিক সাজিয়ে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) থেকে ২৫ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করানো হয়। পরে সাবেক মন্ত্রী জাবেদ তার ঘনিষ্ঠ কর্মচারীদের মাধ্যমে ওই অর্থ উত্তোলন করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেন এবং সেখানে সম্পদ ক্রয় করেন।
২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তে দুদক জানিয়েছে, আসামীরা দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
২০২৫ সালের ২৪ জুলাই দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১ এ প্রথমে জাবেদ ও তার স্ত্রীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। পরে তদন্তে আরও সাতজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় মোট আসামীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৬ জনে।
তবে প্রাথমিক ৩১ আসামীর মধ্যে দুজন মারা যাওয়ায় তাদের বিচারিক কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তারা হলেন ইউসিবিএলের সাবেক ক্রেডিট ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল এবং জাবেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী কাজী মোহাম্মদ দিলদার আলম। অভিযোগপত্রে মোট ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিকে এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।