ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক শরীফ ওসমান হাদী হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিমকে (৩৭) অস্ত্র আইনের একটি মামলায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আদালত একই সঙ্গে রায় কার্যকরের জন্য পলাতক ফয়সাল করিমকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাহমুদুল মোহসীন এ রায় ঘোষণা করেন।

এদিকে, রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ওমর ফারুক বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক এই রায় দিয়েছেন। আসামি বর্তমানে পলাতক থাকায় তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে দণ্ড কার্যকর করতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। দ্রুত এ রায় ঘোষণার ফলে শরিফ ওসমান হাদী হত্যা মামলার বিচারও দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, মামলায় মোট ১৩ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর রাজধানীর আদাবর থানার বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির একটি বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব-২। এসময় ফয়সাল করিম মাসুদকে আটক করা হয়। পরে তার ভাড়া নেওয়া ফ্ল্যাট থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি উদ্ধার করা হয়। ২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর র‌্যাব সদস্য মো. মশিউর রহমান আদাবর থানায় ফয়সাল করিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রও দেওয়া হয়। আদালত সূত্রে জানা যায়, ফয়সাল করিম অস্ত্র মামলায় ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। এছাড়া শরিফ ওসমান হাদী হত্যার পর থেকে তিনি পলাতক। র‌্যাব জানায়, ফয়সাল করিমের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন। ওই সময় তার কাছ থেকে জব্দ করা অস্ত্রের বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি।

শহীদ ওসমান হাদী হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেনকে গত ৭ মার্চ বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। ফয়সাল করিম মাসুদের বাড়ি পটুয়াখালীতে এবং আলমগীর হোসেনের বাড়ি ঢাকায়।