ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদী হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে ভারতে পালাতে সহায়তাকারী সঞ্জয় চিসিমের জামিন আবেদন নাকচ করেছে আদালত। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ সাব্বির ফয়েজ গতকাল বুধবার এ আদেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বলেন, সঞ্জয় চিসিমের পক্ষে তার আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে আদালত জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দিয়েছেন।

গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগর এলাকায় হামলার শিকার হন হাদি। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী। গুলিটি লাগে হাদির মাথায়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। সাত দিন পর গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। হাদিকে গুলির ঘটনার পর ১৪ ডিসেম্বর শেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্ত থেকে সঞ্জয় চিসিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে ভারতে গ্রেপ্তার হন।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটিতে হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত হয়। এরপর থানা পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবি পুলিশকে। তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।

অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন- প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭), তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১), মো. কবির (৩৩), মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা সিবিয়ন দিউ (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭) ও হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল (২৫), মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ (২৬), সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)। তাদের মধ্যে শেষের তিনজন পলাতক রয়েছেন। হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। কিন্তু অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট নয় ইনকিলাব মঞ্চ।