মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের খালাসের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন তার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায় এবং পরবর্তীতে আপিল বিভাগে বহাল থাকা মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অন্য কোনো মামলা না থাকলে এটিএম আজহারুল ইসলামকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। পরে আপিল বিভাগের আদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হলে সেখান থেকে তা কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়। এরপর কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মুক্তি পান।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ মে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এটিএম আজহারের আপিল মঞ্জুর করে তাকে খালাস দেন। সোমবার সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।
আপিল বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা ছিলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি ইমদাদুল হক, বিচারপতি মো. আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। সাত বিচারপতির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে এ রায় দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে রাষ্ট্র ও আসামীপক্ষের আইনজীবীদের পাশাপাশি জামায়াতের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে বেঞ্চ এজলাসে ওঠেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম আইনি বিষয় উপস্থাপন করেন এবং সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে রায় ঘোষণা শুরু হয়।
আদালতে এটিএম আজহারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক ও ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক এবং প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। রায় ঘোষণার সময় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও মহানগরী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় রংপুর অঞ্চলে গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের ঘটনায় এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে ৯ ধরনের ৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২, ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এছাড়া ৫ নম্বর অভিযোগে ২৫ বছর এবং ৬ নম্বর অভিযোগে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পরে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। তবে ৫ নম্বর অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়।
এরপর ২০২০ সালের ১৯ জুলাই আপিল বিভাগের রায়ের পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন এটিএম আজহারুল ইসলাম। ওই আবেদনে ১৪টি যুক্তি উপস্থাপন করা হয়। পুনর্বিবেচনার আবেদন শুনানি শেষে ২০২৫ইং সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ তাকে আপিলের অনুমতি দেন। পরে সেই আপিলের শুনানি শেষে সর্বোচ্চ আদালত তাকে খালাস দেন।