মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় দীর্ঘ ২০ বছর আগে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ডাকাতির মামলায় ১৩ আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গতকাল মঙ্গলবার মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালতের বিচারক শামসাদ বেগম এই রায় ঘোষণা করেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, দণ্ডবিধির ৩৯৫ ধারায় ডাকাতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১৩ আসামীর প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এবং প্রত্যেককে ২৫,০০০ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ০১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা হলেনÑ মিলন, রাহেল, দুলাল, শাহেদ, সেলিম, সাতির, জুনাব আলী, কামাল, মকরম, নকুল, খোকন, জাকারিয়া ও জামাল। তাদের সবার বাড়ি কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। রায় ঘোষণার সময় আদালতে ৩ জন আসামী উপস্থিত ছিলেন; তাদের তাৎক্ষণিকভাবে সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। বাকি ১০ জন আসামী পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কুলাউড়া থানার কর্মধা গ্রামের বাসিন্দা মো. মারুফ আহমদের বসতবাড়িতে একদল ডাকাত হানা দেয়। ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে লুটপাট করে এবং একই রাতে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হয়। এ ঘটনায় মারুফ আহমদ বাদী হয়ে কুলাউড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। অতিরিক্ত (এপিপি) এড. নিয়ামুল হক জানান, ঐ রাতে ডাকাতির পাশাপাশি ধর্ষণের ঘটনাও ঘটেছিল। তবে আইনি প্রক্রিয়ার কারণে ধর্ষণ সংক্রান্ত অভিযোগের জন্য আলাদা চার্জশিট দাখিল করা হয়। বর্তমানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণের মামলার বিচারিক কাজ পৃথকভাবে চলমান রয়েছে। দীর্ঘ দুই দশক পর বিচার সম্পন্ন হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছে।