ঈদুল আযহা উপলক্ষে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে। এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ ক্রেতার নজর মাঝারি ও ছোট আকারের গরুর দিকে। বড় গরুগুলো ঘিরেও আগ্রহ রয়েছে, তবে বেশি। গাবতলীর পশুর হাটেও বেচা-কেনার চিত্র এখনো ধীর। গতকাল রোববার দুপুরে হাট ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, দর্শনার্থী ও আগ্রহী ক্রেতা থাকলেও বড় দামের গরু কিনতে এগিয়ে আসছেন খুব কম মানুষ। অনেকেই বাজার যাচাই করছেন। কেউ কেউ দাম শুনে ফিরে যাচ্ছেন। প্রকৃত ক্রেতার সঙ্গে দর কষাকষি হচ্ছে, তা খুবই কম।

গাবতলীর হাটে কুষ্টিয়া থেকে একটি গরু নিয়ে এসেছেন রেজাউল ইসলাম। প্রায় ২৫ মণ ওজনের গরুটির দাম হাঁকছেন ১২ লাখ টাকা। কেউ কেউ দাম করছেন। তবে নেওয়ার মতো এখনো কেউ দাম বলেননি। তিনি বলেন, গরু বড়, অনেকেই দেখতে আসেন, দাম জিগায়, গরু দেখতে ভিড় থাকলেও দামাদামি করছেন খুব কমজনই। খাবারের খরচ ও পরিচর্যায় অনেক ব্যয় হয়েছে, তাই ভালো দাম না পেলে বিক্রি করবেন না বলে জানান তিনি। হাট ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের মূল আগ্রহ এখন ২০০ থেকে ৩০০ কেজি ওজনের গরুর দিকে। তুলনামূলকভাবে ১ থেকে ৩ লাখ টাকার মধ্যে থাকা গরুগুলোর চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। ১ লাখ ৫৮ হাজার দিয়ে প্রায় চার মণ ওজনের গরু ক্রয় করেছেন আনিসুল হক। তিনি বলেন, সকাল থেকে গরু বেচাকেনা দেখলাম। বিক্রেতারা এখন খুব দাম বেশি চাচ্ছে। চার থেকে ৫ মণের গরু এখন দেড় থেকে ২ লাখ টাকা দাম চায়। অনেক দর কষাকষির পর এক লাখ ৫৮ হাজার টাকা দিয়ে নিলাম।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকায় মাঝারি গরু দ্রুত বিক্রি হচ্ছে। বড় গরু দেখতে মানুষ ভিড় করলেও উচ্চ দামের কারণে চূড়ান্ত ক্রয় কম হচ্ছে। ফলে পুরো হাটে এখন মাঝারি গরুর দিকেই ক্রেতাদের ঝোঁক দেখা যায়। লক্ষ্মীপুর থেকে ২৫টি গরু নিয়ে গাবতলীর পশুর হাটে এসেছেন ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম। খামারে লালন-পালন করা গরুগুলোর দাম চাওয়া হচ্ছে সাড়ে তিন লাখ থেকে শুরু করে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত। তিনি বলেন, হাটে এখনো পুরোপুরি জমজমাট পরিবেশ তৈরি হয়নি, তবে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়ছে। শরিফুল বলেন, অনেকেই এসে গরু দেখছেন, দরদাম করছেন, তবে বেশিরভাগ ক্রেতাই এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। তিনি মনে করেন, সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার পর থেকেই হাটে কেনাবেচার গতি বাড়বে। বিশেষ করে রাতের দিকে ক্রেতার চাপ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন এই ব্যবসায়ী। কুরবানির সময় যত ঘনিয়ে আসবে, ততই মধ্যম দামের গরুর চাহিদা বাড়বে এবং হাটে জমে উঠবে বেচাকেনা। সিরাজগঞ্জ থেকে ২২টি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন জালাল ব্যাপারী। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গরু আনলেও এখনো আশানুরূপ বিক্রি শুরু হয়নি বলে জানান তিনি। জালাল ব্যাপারী বলেন, অনেকেই গরু দেখছেন ও দরদাম করছেন, কিন্তু বেশিরভাগ ক্রেতাই এখনো অপেক্ষায় রয়েছেন। শেষ সময়েই হাটে সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা হবে বলে তার আশা।

‘কালা জামাই’ ও ‘সাদা জামাই’

এদিকে, গাবতলী হাটে ছোট-বড় গরু উঠলেও এখন পর্যন্ত ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে কসবা থেকে আনা দুটি বিশাল গরু, যাদের ‘কালা জামাই’ ও ‘সাদা জামাই’ নামে পরিচিত করাচ্ছেন বিক্রেতা। হাটে ঢুকতেই চোখে পড়ে বিশাল দেহের এই গরু দুটি, যেগুলো দেখতে ভিড় করছেন অনেকে। আবার অনেকে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দিচ্ছেন। দেখা যায়, হাটে ১ নম্বর গেট দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়ে ভিন্ন এক দৃশ্য। প্রবেশ পথের কাছেই রাখা রয়েছে দুটি বিশাল গরু, যেগুলোকে ঘিরে তৈরি হয়েছে দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের ভিড়। দূর থেকেই অনেকে থেমে দেখছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ কাছে গিয়ে গরুর ওজন ও দাম সম্পর্কে জানতে চাইছেন। আরো দেখা যায়, গরু দুটির আশপাশে সব সময়ই মানুষের উপস্থিতি লেগে আছে। হাটের এই অংশটি যেন মুহূর্তেই কৌতূহলের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ব্যস্ততার মধ্যেও গরু দুটিকে শান্ত রাখতে সঙ্গে থাকা পরিচর্যাকারীরা নিয়মিত পানি দিয়ে গা মুছিয়ে দিচ্ছেন।

ট্রাম্পের পর ‘কিম জং উন’

কমলাপুর বালুর মাঠ ঈদের কুরবানির পশুর হাটে এবার দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে একটি গোলাপি রঙের মহিষ। উত্তর কোরিয়ার নেতা ‘কিম জন উন’ এর সঙ্গে মিল রেখে মহিষটির নাম রাখা হয়েছে ‘কিম জং উন’। নাটোরের গুরুদাসপুর থেকে আনা এই মহিষ দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা। প্রায় সাড়ে নয় মণ ওজনের মহিষটির মালিক সোহান জানান, খুব যতেœ তিনি মহিষটিকে লালন-পালন করেছেন। নিয়মিত গোসল করানো থেকে শুরু করে খাওয়ানো সবকিছুই নিজ হাতে করেছেন। তিনি বলেন, মহিষটিকে কোনো ধরনের মেডিসিন খাওয়ানো হয়নি। খড়কুটো, কাঁচা ঘাস, ধানের তুষ, ভাঙা ভুট্টা ও গমের ভুসিই ছিল এর প্রধান খাবার। দাম সম্পর্কে সোহান বলেন, মহিষটি থেকে প্রায় সাড়ে নয় মণ মাংস পাওয়া যাবে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী এর দাম পাঁচ লাখ টাকা চাওয়া হচ্ছে। তবে সাড়ে চার লাখ টাকা পেলেও তিনি বিক্রি করতে রাজি আছেন।