লালমনিরহাট জেলা সংবাদদাতা : লালমনিরহাটের পাটগ্রাম পৌরসভার আমীরসহ জামায়াত-শিবিরের ৬ জন কে গ্রেপ্তার করেছে পাটগ্রাম থানা পুলিশ। রোববার ২২ মার্চ রাত ৮ টার দিকে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম ইউনিয়নের কালিরহাট এলাকায় ছাত্র শিবিরের কর্মী মোঃ সাকিবকে চায়ের দাওয়াতের কথা বলে ডেকে নিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে।
পরবর্তীতে স্থানীয় জনগণ তাকে উদ্ধার করে পাটগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীরা তার খোঁজ নেওয়ার জন্য মেডিকেলে যাওয়ার পথে তাদের প্রতি আবারো যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা হামলা করে। হামলার শিকার হয়ে তারা মারাত্মক আহত হয়েছে। জেলা জামায়াত জানান, পাটগ্রাম থানা পুলিশ সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে আহত শিবির কর্মীদের পাটগ্রাম মেডিকেল থেকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
এরপর তার পিতাসহ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়াও থানায় যারা মামলা করতে যান। তাদের কেও গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায়। এছাড়াও মঙ্গলবার ২৪ মার্চ দুপুরে পাটগ্রাম পৌর আমীর
মোঃ সোহেল রানা কে পাটগ্রাম এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের আমীর এ্যাডভোকেট আবু তাহের, জেলা সেক্রেটারি এ্যাডভোকেট মোঃ ফিরোজ হায়দার লাভলু ও সহকারী সেক্রেটারি হাফেজ শাহ আলম উক্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। অবিলম্বে তাদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে লালমনিরহাট জেলা জামায়াত নেতৃবৃন্দ।
জামায়াতের নিন্দা ও প্রতিবাদ॥ অবিলম্বে মুক্তি দাবি
পাটগ্রাম পৌর জামায়াতের আমীর সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এবং অনতিবিলম্বে মুক্তি দাবি করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতি প্রদান করেছেন।
প্রদত্ত বিবৃতিতে তিনি বলেন, “২০১৩ ও ২০১৪ সালে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও পুলিশের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় বর্তমান সরকারের আমলে একজন সক্রিয় রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেফতার করার ঘটনা দুঃখজনক। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী মতের নেতাকর্মীদের এভাবে হয়রানি করা দুঃখজনক এবং ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। ফ্যাসিবাদ আমলের মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় পাটগ্রাম পৌর জামায়াতের আমীর সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ ও পুলিশের যৌথ আক্রমণে নিহত জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীর হত্যা মামলাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য তৎকালীন পুলিশ প্রশাসন উল্টোভাবে ঐ সময়কার শহীদের পিতাসহ জামায়াত নেতা সোহেল রানার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পাটগ্রামের পুলিশ গতকাল দুপুরে জামায়াত নেতা সোহেল রানাকে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলকে সন্তুষ্ট করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রোণোদিতভাবে তাঁকে গ্রেফতার করে।
তিনি আরও বরেন, গত ২২ মার্চ রাত আটটার দিকে পাটগ্রাম ইউনিয়নের কালিরহাট এলাকায় ছাত্র শিবিরের কর্মী মোঃ সাকিবকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে অতর্কিতভাবে হামলা করে মারাত্মক আহত করে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পুলিশ অপরাধীদের গ্রেফতার না করে উল্টো পাটগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ চিকিৎসাধীন মারাত্মকভাবে আহত সাকিবকে গ্রেফতার করে। তার পিতাসহ কয়েকজন থানায় মামলা করতে গেলে তাদেরকেও গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। পুলিশ কতটা দলীয় লেজুরবৃত্তি করলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। আমি এই ঘটনারও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, আমি অবিলম্বে সোহেল রানার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি এবং আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আমলের মত রাজনৈতিক হয়রানিমূলক কার্যক্রম থেকে বিরত থেকে দল নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।