শ্রীপুর (মাগুরা) সংবাদদাতা : মাগুরায় লিচুর ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে বাজিমাত করেছেন মৌ চাষি জাহাঙ্গীর আলম।দেশের বিভিন্ন স্থানে মধুর মৌসুমে মৌমাছি চাষ করে সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি। সরিষা,লিচু,কালোজিরা,সুন্দরবনের খলিশা, বাইন মৌ চাষে তিনি এগিয়ে রয়েছেন। মাগুরা সদরের নরহাটি, শিবরামপুর , হাজরাপুর, হাজিপুর, মির্জাপুর এলাকায় একাধিক লিচু বাগানে এখন লিচু ফুলে ভরে গেছে। এ লিচু ফুল থেকেই সংগ্রহ করা হচ্ছে মধু। এসব বাগানের প্রতিটি গাছেই লিচুফুলের আকর্ষণীয় সৌন্দর্য পথচারী ও মানুষকে করেছে বিমোহিত। বর্তমানে এসব বাগানে লিচু ফুল থেকে মধু চাষ করছেন জাহাঙ্গীর আলম।
মধু ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে বিভিন্ন মৌসুমি আমি বাগানে গিয়ে মধু সংগ্রহ করে আসছি । কিছুদিন আগে করেছি সরিষা থেকে মধু সংগ্রহ,এখন করছি লিচুফুল থেকে মধু সংগ্রহ। প্রতিটি বাগানে আমাদের লিচু মধু সংগ্রহের কাজ শুরু হয় ২০ দিন। এ সময় প্রতিটি বাগানে স্থাপন করা হয় ২শ বক্স মৌমাছি। এই মৌমাছি সকাল থেকেই সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রতিটি গাছের ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায়। তারপর ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে আবার বক্সে ফিরে আসে। ৫ থেকে ৬ দিন পর পর প্রতিটি বক্স থেকে সংগ্রহ করা হয় মধু। এরপর মেশিনের সাহায্যে সেই মধু বোতলজাত করা হয়। এ মৌসুমে ১০ থেকে ১৫ মন সংগ্রহের ইচ্ছা আছে আমার।
তিনি আরো জানান, পাইকারি কারিগররা বিভিন্ন স্থান থেকে এসে আমাদের কাছ থেকে মধু ক্রয় করে নিয়ে যায়। প্রতি কেজি মধু পাইকারি মূল্য ৩ থেকে ৪ শত টাকা। তাছাড়া বিভিন্ন কোম্পানি আমাদের মধু সংগ্রহ করে তাদের কার্যক্রম চালায়। বর্তমানে আমার মধু পাবনা,ঈশ্বরদী, চলনবিল,ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় মধুর মহাজনরা এসে মধু সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছে। কথা প্রসঙ্গে তিনি আরো জানান, আমি সরিষা,লিচু,কালোজিরা থেকে মধু সংগ্রহ করে আসছি। এখন কিছুর মৌসুম আসছে তাই লিচু বাগান থেকেই মধু সংগ্রহ করছি। সরিষা ফুলের মধু একটু ঘন। তাই যে কোন শীতেই সরিষা মধু জমাট বেধে যায়। লিচু ফুলের মধু একটু পাতলা। লিচু ফুলের মধু খেতে খুবই পুষ্টিকর। লিচু ফুলের মধু থেকে বিভিন্ন রকম ওষুধ তৈরি করা হয়। লিচু ফুলের মধু অধিক সমাদ্রিত।