গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা : ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নের শালীহর গ্রামে এম.জি.এম (বর্তমান ফাইজা ব্রিক্স) ইটভাটায় ৬০জন গ্রাহকের অগ্রিম ক্রয়কৃত ৪২লাখ টাকার ইট দেয়ার দাবিতে রোববার (২৯ মার্চ/২৬) উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগী পরিবার। এরপরে তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন। ইটক্রয়ের গ্রাহক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ফাইজা ব্রিকস্ এফ ইসলাম এন্ড কোম্পানীর ১৬৭নং মেমো মূল্যে ৫টা ৫০পয়সা দরে ২০১৮সনের ২৮ অক্টোবর ১১লাখ টাকা দিয়ে ২লাখ ইট ক্রয় করেন। ভাড়াটিয়ার নিকট থেকে এ ইট ক্রয় করার মাধ্যম ছিলো মূল মালিক বোরহান উদ্দিন শোয়েব। এরমধ্যে তিনি ৮১হাজার ইট নেন। শালীহর গ্রামের আব্দুস সাত্তার ২০২২সনের ২১মার্চ ৪৮হাজার টাকা জমা দেন। এরমধ্যে ১৯হাজার টাকা মূল্যে ২হাজার ইট নেন। অবশিষ্ট ২৯হাজার টাকার ইট এখন পর্যন্ত তিনি পাননি। পৌর শহরের বাড়িওয়ালাপাড়ার মধু সরকার জানায়, ৪৫হাজার ইট কিনেছিলেন। এরমধ্যে ১০হাজার ইট তিনি নেন। এরপরে ইট চাইতে গেলে তাকে জীবননাশের হুমকি দেয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি থানায় জিডি করেছেন।

তিনি আরও জানান, ফাইজা ব্রিকস্ এফ ইসলাম এন্ড কোম্পানী ইটভাটায় ৭লাখ ইট রেখে পাওনাদারদের একটি কমিটি করে এ ইট বুঝিয়ে দেন। এরপরে যারা ২/৩হাজার ইট পাওনা ছিলো, তাদেরকে কিছু ইট দেয়া হয়। বাকী ইট তৎকালীন পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ও ইটভাটার মূল মালিক বোরহান উদ্দিন শোয়েব নিয়ে যান।

ইটক্রয়ের গ্রাহক আব্দুস সাত্তার জানান, ফাইজা ব্রিকস্ এফ ইসলাম এন্ড কোম্পানীর মালিক মো. ফারুকুল ইসলাম পূব শালীহর গ্রামের এ ইটভাটাটি ভাড়া নিয়েছিলো। তখন সে এ গ্রাহকদের (পাওনাদার) জন্য ৭লাখ ইটও রেখে যান। সেই ইট গ্রাহকদের দেয়া হয়নি। ২০২৪ সনের ৫ আগস্টের পরে এ ইটভাটার মূল মালিক বোরহান উদ্দিন শোয়েব ও তার ভাই খায়ের উদ্দিন রতন দায়িত্ব নেন। ১০জন অংশীদার নিয়ে ইটভাটাটি পুনরায় চালু করা হলেও তাদের পাওনা ইট দেয়া হচ্ছে না। তাদের রশিদমূলে ক্রয়কৃত প্রাপ্য ইট ফেরত দেয়ার দাবি জানান।