বরিশাল অফিস ও পিরোজপুর ও ঝালকাঠি সংবাদদাতা
মানুষের বিপুল আশা নিয়ে সরকার এবং সংসদ গঠিত হলেও প্রথম অধিবেশনেই জনগণ আশাহত হয়েছে। সরকার জনগণের ভাষা না বুঝে জন আকাক্সক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে বিধায় জনগণ মন্ত্রীদের দেখে ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিচ্ছে কেমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। গতকাল শনিবার বরিশাল মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে দুইদিনব্যাপী রুকন টিসির শেষদিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার গণভোটে ৭০ ভাগ জনগণের মতামত উপেক্ষা করে যে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করেছে এটা অপ্রয়োজনীয়। রাজনৈতিক সংকট অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে মন্ত্রী এমপিদের জনগণ থেকে পালাতে হচ্ছে। জনগণের প্রত্যাশার বিপরীতে অবস্থান নেয়ার ফলে সরকার গঠনের দুই মাসের মধ্যেই সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। সরকার ক্ষমতার আসার আগে জনগণের কাছে যে ওয়াদা করেছে একে একে সেগুলো পদদলিত করে একদলীয় ফ্যাসিবাদের দিকে আগাচ্ছে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থায় যে সংবিধান তৈরি হয়েছে এর মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের জন্ম হচ্ছে, আর বিএনপি সেই সংবিধান রক্ষার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, সাংবিধানিক পথ সমূহ জুলুমের হাতিয়ারে পরিণত হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর হাতে অসীম ক্ষমতা দেয়া রয়েছে এর মাধ্যমে কখনোই ভারসাম্যপূর্ণ সরকার ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে না। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য ছাত্র-যুবক রাস্তায় জীবন দিয়ে হাসিনা সরকারের মত একটি সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে এবং দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করেছে সেই ছাত্র জনতার গণদাবিকে ক্ষমতায় বসেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর হাতে সাংবিধানিক পথ সমূহের কর্তৃত্ব থাকলে এখানে নিয়োগ হবে দলীয় ভিত্তিতে এবং জনগণ এর সুফল পাবেনা। ছাত্র জনতার উই ওয়ান্ট জাস্টিস বলে গুলির সামনে বুক পেতে দেওয়া যে আকাক্সক্ষা নিয়ে বাস্তবায়িত হয়েছিল সে আকাক্সক্ষা পদদলিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ৩৩ টি রাজনৈতিক দল দীর্ঘ আলোচনা করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জুলাই সনদ এর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিল এবং জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই স্মারক অনুমোদিত হল। ৮৪ টা বিষয়ে সকল রাজনৈতিক দল একমত হল যে সংবিধান সংশোধনের জন্য রাষ্ট্রপতির প্রজ্ঞাপন দিবে। সংবিধান সংশোধনের জন্য রাষ্ট্রপতি ২৫ সালের ১৩ই নভেম্বর গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই দিনে হবে বলে প্রজ্ঞাপন দিল, যদিও আমরা গণভোট আগে হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলাম কিন্তু জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে আমরা এবং জাতীয় নির্বাচন একই দিনে হওয়াটা মেনে নিলাম। বিএনপির দাবির প্রেক্ষিতে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই দিনে হলো এবং এর ফলাফল জনগণ দেখতে পাচ্ছে। গনভোট আগে হলে,পরিস্থিতি এমন হতো না।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সহিংসতায় বিশ্বাস করে না বলে বুকে পাথর চেপে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছে। আমরা এখনই সরকারের পদত্যাগ চাইনা, সরকার জনগণের মেন্ডেট নিয়ে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করবে এবং জনরায়কে আমলে নিয়ে সংবিধান সংশোধন করবে। জনগণকে ভুল বুঝিয়ে বেশি দূর আগানো যাবে না, বিএনপি তার অবস্থান পরিবর্তন না করলে জনগণ আবার রাস্তায় নেমে আসবে। ইদানিং জুলাই সনদ মানার ব্যাপারে অনেক মন্ত্রী এমপিরা ঘোষণা দিচ্ছে কিন্তু মানা হবে তাদের নোট অফ ডিসেন্ট দেয়া ধারা সমূহ বাদ দিয়ে এতে করে জন প্রত্যাশা পূরণ হবে না, বিএনপির অবস্থা হয়েছে শালিস মানি তালগাছ আমার এই নীতি থেকে সরে এসে জনরায়কে আমলে নিয়ে কোন ভোটে জনগণ যে চারটি বিষয়ে হ্যাঁ দিয়েছে সবগুলো মেনে নিতে হবে। সরকার ইচ্ছে করলেই এই সংকট থেকে উত্তরণ করা সম্ভব, আগামী ৭ জুন বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে অধিবেশনের শুরুতেই সরকার গণভোটের বিল আনবে এবং পাস করিয়ে দেবে বলে বিশ্বাস করি।
কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগর আমীর মাওলানা জহির উদ্দিন মু. বাবরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বরিশাল অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক অ্যাডভোকেট মুয়াযয্ম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও নড়াইল জেলা আমির আতাউর রহমান বাচ্চু এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বরিশাল অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা একেএম ফকরুদ্দিন খান রাজি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যাপক শাহ্ আলম।
মহানগরীর সহকারি সেক্রেটারি মাওলানা আতিকুল্লাহ এর সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগর নায়েবে আমীর মাহমুদ হোসাইন দুলাল, মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা মতিউর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার মিজানুর রহমান, জামায়াত নেতা শেখ নেয়ামুল করিম, ড.ফয়জুল হকসহ বরিশাল মহানগর নেতৃবৃন্দ।
পিরোজপুর সংবাদদাতাঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে গণভোটের পক্ষে ভোট চেয়েছে এখন সরকার গঠন করে পল্টি দিয়ে সংসদে দাঁড়িয়ে গণভোটের বিরুদ্ধে কথা বলছে। তারা গণভোটের রায় অস্বীকার করেছে। দুনিয়ার আর কোন সরকার গণভোটের রায় কে অস্বীকার করেছে এমন কোন নজির নাই। আর এ কারণেই দেশে এমন সংকট দেখা দিয়েছে। নির্বাচনে তারা গণভোটে হ্যাঁ তে ভোট দিতে বলেছে। হ্যাঁ তে ভোট দেওয়ার অর্থই হলো গণভোটের চারটি প্রশ্নে যেখানে কোন নোট অফ ডিসেন্ট নাই ওই সকল ৮৪ টি সংস্কার তারা মেনে নিয়েছে। এখন তারা এটাকে বেআইনি বলছে।
গতকাল শনিবার শহরের বাইপাস রোডে অবস্থিত পিরোজপুর কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পিরোজপুর জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রুকন সম্মেলনে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সকল রুকন অংশগ্রহণ করেন।
জামায়াতে ইসলামী পিরোজপুরের জেলা শাখার সেক্রেটারি জহিরুল হকের পরিচালনায় এবং জেলা আমীর অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসাইন ফরিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিসের শূরা সদস্য মাওলানা এ কে এম ফখরুদ্দিন খান রাযীসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বিএনপি সরকারের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, সমস্যা আপনারা তৈরি করেছেন সমাধান আপনাদেরই করতে হবে। আমাদেরকে সব সময় আপনারা দায়িত্বের প্রতি, আন্দোলনের প্রতি গঠনমুলক পাবেন। জামায়াত ইসলামের কর্মী, রুকনদের দায়িত্ব হচ্ছে একদিকে জনগণের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটানো অন্যদিকে আমাদের আন্দোলনকে লক্ষ্যপানে পৌঁছে নেওয়া এবং সকল কর্মসূচি সফল করা।
মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ও রুকনদের সামাজিক কাজে আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে হবে। সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই একটি মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠন সম্ভব।
ঝালকাঠি সংবাদদাতা : জুলাই সনদের ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কার না করলে সংসদে এবং রাজপথে আন্দোলনে নামার হুশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপি এক ধরনের দ্বিধা ও সংকটের মধ্যে পড়েছে। সংস্কার প্রশ্নে তাদের অবস্থান এখন অস্পষ্ট হয়ে গেছে। আগে তাঁরা যে সংস্কার, গণভোট ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কথা বলেছিল, এখন ক্ষমতায় আসার পর সেই অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে সংসদে ও রাজপথে আন্দোলন করবে জামায়াত।
গতকাল শনিবার দুপুরে ঝালকাঠি শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে জেলা জামায়াত আয়োজিত রোকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, জনগণের সামনে বিএনপি এখন নিজেরাই নিজেদের অবস্থানের ব্যাখ্যা দিতে পারছে না। তাঁরা এখন সংস্কারকে পাশ কাটিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল, বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। জনগণ চেয়েছিল জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, সুশাসন ও ন্যায়বিচার। কিন্তু এখনও মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। দেশে খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই ও সড়ক দুর্ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে বলেও জানান তিনি।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়বে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে না পারলে সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল।
ঝালকাঠি জেলা জামায়াত ইসলামির আমীর অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে রোকন সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, বরিশাল অঞ্চলের টিম সদস্য মাওলানা ফখরুদ্দিন খান রাজী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ ফরিদুল হক ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট বিএম আমিনুল ইসলাম এবং গত সাংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি ১ আসনের জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী ড. ফয়জুল হক, ঝালকাঠি-২ আসনের শেখ নেয়ামুল করিম।