মোঃ একরামুল হক, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ধলই ইউনিয়নের কাটিরহাট ধলইপুলের পূর্বপাশে অবৈধভাবে মাটি কাটার ফলে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি গভীর খাদে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্রের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে এ অবৈধ কার্যক্রম চললেও তা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষিজমি থেকে নির্বিচারে মাটি কেটে ‘সাগর সদৃশ’ বড় বড় গর্ত তৈরি করা হয়েছে। এতে এলাকার কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি ধলই খালের পাড় ঘেঁষে মাটি কাটার কারণে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে খালের পাড় ভেঙে আশপাশের জমি ও বসতবাড়ি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী কয়েকজন জমির মালিক অভিযোগ করেন, জোরপূর্বক জমি দখল করে রাতের আঁধারে মাটি কাটা হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের হুমকি দেওয়া হয়।
এদিকে, ওই এলাকায় স্থাপিত ৩৩ কেভি বৈদ্যুতিক লাইনের খুঁটির নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘিœত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে।
অভিযোগ রয়েছে, এ বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে এক ব্যক্তি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রতিবেদকদের হুমকি দেন। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরে গত ১ এপ্রিল সন্ধ্যায় ভুক্তভোগীরা হাটহাজারী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে।
উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহেদ আরমান বলেন, “এর আগে একবার জরিমানা করা হয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দীন বলেন, “ফসলি জমিতে এ ধরনের মাটি কাটা গুরুতর অপরাধ। এ বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটি সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সংস্কার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।