ঢাকার মগবাজারে একটি পাঞ্জাবির দোকান বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় আদালত হাতিরঝিল থানার ওসিকে তলবের পর তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে ডিএমপি। বুধবার রাতে ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ থেকে এক বার্তায় বলা হয়েছে, ওসি গোলাম মর্তুজাকে ডিএমপি সদর দপ্তরে এবং আরেক এএসআইকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা সেই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে বার্তায়।
মগবাজারে নবীন ফ্যাশনের একটি পাঞ্জাবির দোকান বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বুধবার অসন্তোষ প্রকাশ করে হাতিরঝিল থানার ওসিকে তলব করে ঢাকার একটি আদালত। সেইসঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে দোকানটি খুলে দিতে ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
রোজার ঈদের আগের দিন ২০ মার্চ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কম দামে পাঞ্জাবি বিক্রি করায় আশপাশের ব্যবসায়ীরা মগবাজারে নবীন ফ্যাশন এর দোকান জোর করে বন্ধ করে দেন। কমদামে পণ্য বিক্রিকে রিলিফ দেওয়ার সঙ্গে তুলনা করে আপত্তি তোলেন প্রতিবেশী দোকানদাররা। এ সময় সেখানে পুলিশের উপস্থিতিও দেখা যায়।
এ বিষয়ে বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়, একটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত এক খবরে দেখা যায়, মগবাজারের বিশাল সেন্টার মার্কেটের নবীন ব্র্যান্ডের একটি পাঞ্জাবির দোকানে একদল লোক পুলিশসহ উপস্থিত হয়ে দোকান বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ঘটনাস্থলে কিছু ব্যক্তিকে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করতে দেখা গেলেও পাশে থাকা পুলিশ সদস্যদের নির্লিপ্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশের এমন নির্লিপ্ততা জনমনে ভীতি সৃষ্টি করতে পারে। কেন এ ধরনের আচরণ আইনবহির্ভূত ও পেশাদারত্ববিরোধী হিসেবে ঘোষণা করা হবে না–তা জানতে চেয়ে হাতিরঝিল থানার ওসিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেন বিচারক। সেই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিস্তারিত নাম-পরিচয় আদালতে জমা দিতে বলা হয়।
এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে হালের আলোচিত নবীন ফ্যাশনের বন্ধ দোকানটি খুলেছে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা। এর আগে হাতিরঝিল থানা থেকে একদল পুলিশ গিয়ে দোকানটি খুলে দিলে স্বাভাবিক ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় নবীন ফ্যাশন।