গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা : নৃশংস শিশু হত্যা যেন আরেকবার নাড়া দিল মানবতাকে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে শিশু শরিফার নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে জনপদ। বিচার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সর্বস্তরের মানুষ।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ১১টায় উপজেলার বাংগাবাড়ি তেলিপাড়া বাজারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংগাবাড়ি দাড়িপাতা নুরানি মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকবৃন্দ। নিহত শরিফা ওই মাদ্রাসার শিশু শ্রেণির ছাত্রী ছিল। কোমলমতি এই শিশুর এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার সহ-সভাপতি তোফাজ্জল হক। এতে বক্তব্য রাখেন বাংগাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সারিকুল ইসলাম সাদ্দাম, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বুলবুল, বাংগাবাড়ি স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল, জামায়াতে ইসলামীর নেতা ডা. আবদুল গনি, ইউপি সদস্য তরিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা মেসবাহুল হক বুলেট, মুনিরুল ইসলাম, আনারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রুহুল আমিন এবং দাড়িপাতা নুরানি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শিশু শরিফার এই হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজের ওপর আঘাত।” তারা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি স্থানান্তর করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি—দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করার জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন নৃশংসতা রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেন।
উল্লেখ্য, রোববার (৫ এপ্রিল) উপজেলার আলিনগর ইউনিয়নের বিজলি পাড়া এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে নিখোঁজ শিশু শরিফার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জানা যায়, গত শুক্রবার সে তার নানার সঙ্গে আলিনগর মক্রমপুরে একটি তাফসীর মাহফিলে অংশ নিতে ফুফুর বাড়িতে যায়। সেখানেই তার দুলাভাই তাকে হত্যা করে ধানক্ষেতে লাশ ফেলে রাখে বলে অভিযোগ ওঠে।
গোমস্তাপুর থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আওয়াল জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত অন্তর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছে।
একটি নিষ্পাপ প্রাণের এমন নির্মম পরিণতি শুধু একটি পরিবারের নয়, গোটা সমাজের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। এখন সবার একটাই দাবি—দ্রুত বিচার, কঠোর শাস্তি এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর উদ্যোগ।