সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা : সিদ্ধিরগঞ্জে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উত্তর থানা শাখার উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী ও প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার ৩এপ্রিল বিকাল চারটায় গোল্ডেন সিটি টাওয়ারে উক্ত ঈদ পুনর্মিলনী ও প্রীতিসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। থানার আমির মাওলানা মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সম্মানিত আমির ও কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল জব্বার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সেক্রেটারি জেনারেল ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসেন, সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল জামাল হোসেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগরের কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল বাকি। ৩ নং ওয়ার্ড কমিশনার পদপ্রার্থী আব্দুল খালেক।
প্রদান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, মানুষ যখন আল্লাহর কৃতজ্ঞতা বেশি বেশি স্বীকার করেন আল্লাহ তখন তার নেয়ামতকে আরো বেশি বাড়িয়ে দেন। আজকে আমরা এই খোলা ময়দানে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে পারছি সেজন্য আমরা সবাই বলি আলহামদুলিল্লাহ। বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরবর্তী সময় যদি আমরা হিসাব করি প্রায় ৫৫ বছর অতিবাহিত হতে চলেছে। আমরা যদি ৭১ থেকে এ পর্যন্ত হিসাব করি আমাদের যত অর্জন রয়েছে সেই অর্জনের বিপরীতে আমাদের যে কষ্ট, আমাদের দুঃখ, আমাদের যাতনা সেটি অনেক বেশি কারণ বৈষম্যের বিরুদ্ধে সে সময় এই স্বাধীনতার যুদ্ধ হয়েছিল। পশ্চিম পাকিস্তানিদের হাত থেকে বাঁচার জন্য এ লড়াই হয়েছিল, কিন্তু বাংলাদেশ একটি ভূখণ্ড, একটি মানচিত্র, একটি লাল টুকটুকে পতাকা পাওয়ার পরেও নিজেদেরকে বৈষম্য থেকে বাঁচাতে পারেনি। যেখানে জনগণের নিরাপত্তা নাই, অর্থনৈতিক গ্যারান্টি নাই, যেখানে নারীদের ইজ্জত সম্ভ্রম নিরাপত্তা নাই। তাদের ব্যাপারে রাষ্ট্র কোন জিম্মাদার নিতে পারেনা সেখানে বারবার বাংলাদেশ রক্তাক্ত হয় আর জুলাই ফিরে আসে। আমরা ৫ আগস্টের এর পর মনে করেছিলাম সম্ভবত এই জুলাইয়ের পর বাংলাদেশ আর রক্তাক্ত হবে না। উই আর জাস্টিসের ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে, নতুন রাষ্ট্র কাঠামো মেরামত হবে। আর এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আর কোন ফ্যাসিজমের আবির্ভাব হবে না। গণহত্যার বিচার হবে, সংবিধান সংস্কার হবে, এটি ছিল জনগণের অভিপ্রায়। কিন্তু বর্তমান সরকার জনগণের সেই অভিপ্রায়কে প্রত্যাখ্যান করে আবার ফ্যাসিজম কায়েমের চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের জন্য এটি একটি বড় সমস্যার বিষয়। ক্ষমতার লাল চশমা যখন চোখে পড়ে তখন তাদের উপর যে জুলুম নির্যাতন হয়েছিল তা তারা ভুলে যায়। এই ভুলে যাওয়ার কারণেই মনে হয় বাংলাদেশ আবার ফুসে উঠবে। সংবিধানের দোহাই দিয়ে মানুষকে ৭, ৫, ১৪ বুঝানোর চেষ্টা করলে জনগণ তা মেনে নিবে না। তাই আমরা সরকার বাহাদুর কে বলবো সোজা পথে আসুন নয়তো আবার জুলাই আসবে।
থানা সেক্রেটারি কামরুল ইসলাম রিপনের সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন কামরুল হাসান রিঙ্কু, জিল্লুর রহমান, আরিফ বিল্লাহ, সাইফুল ইসলাম, ইব্রাহিম খলিল, শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।