সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত পৃথক দুইটি অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর দুই সদস্যকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। একই সময়ে জোনাব বাহিনীর জিম্মিতে থাকা তিনজন জেলেকেও উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট শেখ সাদমান বিন মাহমুদ এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, খুলনার দাকোপ থানার বাইনতলা খাল সংলগ্ন সুন্দরবন এলাকায় ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা এবং নলিয়ান আউটপোস্ট যৌথভাবে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি বুঝতে পেরে দস্যুরা বনের ভেতরে পালানোর চেষ্টা করে। তবে তাৎক্ষণিক ধাওয়া দিয়ে তাদের দুই সদস্যকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে দুটি একনলা বন্দুক, ২৩ রাউন্ড তাজা গুলী, পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলী, পাঁচ পিস ইয়াবা এবং নগদ এক হাজার ১০০ টাকা জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের ব্যবহৃত আস্তানাও ধ্বংস করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সোহাগ হাওলাদার এবং খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বাবুল সানা। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে বিভিন্ন দস্যুতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
অন্যদিকে, পৃথক আরেকটি অভিযানে সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার হোগলডরা খাল এলাকায় জোনাব বাহিনীর কবলে থাকা তিন জেলেকে উদ্ধার করা হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ মার্চ দস্যুরা একটি নৌকাসহ তিনজন জেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করছিল।
এ তথ্যের ভিত্তিতে ১ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন হলদেবুনিয়া ও কৈখালী যৌথভাবে অভিযান চালায় এবং জেলেদের উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এ সময় দস্যুদের ব্যবহৃত একটি নৌকা, দুই রাউন্ড তাজা গুলি, এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি, তিনটি ওয়াকিটকি চার্জার, তিনটি মোবাইল ব্যাটারি এবং একটি কুড়াল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ইনতাজ, মোশাররফ এবং আনিস।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গত দেড় বছরে কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে করিম-শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ এবং আসাবুর বাহিনীর মোট ৬১ জন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৮০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গুলী, ৩০৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলী এবং ১ হাজার ৯৫০ রাউন্ড এয়ারগানের গুলী জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া দস্যুদের কবল থেকে ৭৮ জন জেলে এবং তিনজন পর্যটককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।