দিনাজপুর অফিস
দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঈদগাহ দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ ময়দানে লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২১ মার্চ’২৬ শনিবার এই ঈদ নামাজে এবার অংশ নিয়েছেন কিশোরগঞ্জ, বাগেরহাট, নীলফামারী, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, ঢাকা ও গাজীপুর থেকে আসা বেশ কিছু মুসল্লি। তবে এবার ঈদের আগের রাতে ঝড়-বৃষ্টি হওয়ার কারণে ঈদগাহ ময়দানে মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল অপেক্ষাকৃত কম। প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় মসজিদ ও ছোট ছোট মাঠগুলোতে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে সকাল ৬টা থেকে মুসল্লিরা সমবেত হতে শুরু করেন ঈদগাহে। ঠিক ৯টায় শুরু হয় নামাজ। এখানে ইমামতি করেন জাতীয় ইমাম সমিতি দিনাজপুরের সভাপতি প্রবীণ আলেমে দ্বীন মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমী। নামাজ শেষে দেশ, জাতি, মধ্যপ্রাচ্য, মুসলিম উম্মাহসহ ৭১ ও ২৪-এর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের জন্য দ্রুত সুস্থতা কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
বৃহৎ এ জামাত শুরুর আগে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর-সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা জজ মো. আলমগীর হোসেন, জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, দিনাজপুর পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা। দিনাজপুর-সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমাকে আপনারা নির্বাচিত করেছেন এজন্য আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ। এবার মাঠে কিছুটা ত্রুটি রয়েছে। আগামীতে আরও সুন্দর পরিবেশে ঈদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হবে। সবাইকে ঈদ মোবারক। দিনাজপুর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মুসল্লিদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, রমজানে আমরা যে তাকওয়া অর্জন করেছি, তা হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। নামাজ শেষে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলা থেকে আসা মুসল্লি স্বাস্থ্য সহকারী আব্দুল ওহাব (৫৫) বলেন, আমরা প্রতিবার শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজ আদায় করি। শুনেছি দিনাজপুরে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় মিনার ও ময়দানে লাখো মানুষ নামাজ আদায় করে। আজ আমি এখানে নামাজ আদায় করলাম। এত বড় জামাতে নামাজ আদায় করতে পেরে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। নীলফামারী জেলা থেকে আসা রংপুরের একটি হিমাগারের ম্যানেজার আব্দুস সাত্তার (৬৩) জানান, তিনি এবার নিয়ে ৭ বার এ মাঠে নামাজ আদায় করলেন। তিনি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন। অন্যবারের চেয়ে এবারের ব্যবস্থাপনা ভালো ছিল।
এত বড় মাঠে এত মুসল্লির সঙ্গে নিয়ে নামাজ আদায় করার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ সেনা ঈদগাহ ময়দান ও মিনার ২১.৯৯ একর আয়তনবিশিষ্ট। এ ঈদগাহে ১৯৪৭ সাল থেকে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হলেও ২০১৭ সাল থেকে আধুনিক নির্মাণশৈলীতে তৈরী মিনার নির্মান করে বৃহৎ পরিসরে ঈদের জামাত শুরু হয়।