ফেনী সংবাদদাতা : ফেনী আলিয়া মাদরাসার বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ, ফ্যাসিস্টের দোসর মাওলানা মাহমুদুল হাসান মামলা চলমান থাকা অবস্থায় স্বপদে ফিরলেন কীভাবে তা ছাত্র শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন মহল জানতে চান। শেখ মুজিবের প্রতিকৃতিতে ফুলের মালা দিয়ে দোয়া করে ফেনীর গডফাদার খ্যাত জয়নাল হাজারী কে ম্যানেজ করে ফেনীর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিবের পদ বহাল রাখেন। কিন্তু মুসল্লীদের আন্দোলনের মুখে খতিবের পদ থেকে অপসারিত কিছুদিন পর ফেনী আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষের পদ খালি হলে নিয়মিত নিজাম হাজারীর আস্তানায় যাওয়া আসা শুরু করেন। তিনি অধ্যক্ষের পথ ভাগিয়ে নিতে সক্ষম হন। এর পরেই তিনি স্বমূর্তিতে আবির্ভূত হন। ছাত্রাবাস থেকে শিবির সন্দেহে বহু ছাত্রকে বের করে দেন। তাঁর অপকর্মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বহু শিক্ষক হেনস্থার শিকার হন। দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, জোর করে ছাত্রদেরকে আওয়ামী লীগের মিছিল মিটিংয়ে প্রেরণসহ হেন কোন অপকর্ম নেই যা তিনি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে করেননি। ২৪ এর আগস্ট বিপ্লবের পর তিনি পালিয়ে যান। তখন তাঁর বিরুদ্ধে ৫-৬ টি মামলা হয়। প্রশাসনিক তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও এবং সেসব মামলা চলমান থাকা অবস্থায় হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে এসে বৃহস্পতিবার তিনি জেলা প্রশাসক মনিরা হকের নিকট যোগদান পত্র জমা দিয়ে সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে মাদরাসায় এসে অধ্যক্ষের চেয়ারে বসেন। এতে আবার চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মাদরাসার পরিস্থিতি। আওয়ামী লীগ এবং বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের একাংশকে ম্যানেজ করে আবারও তিনি অধ্যক্ষের চেয়ারে বসেছেন।

এ ব্যাপারে মাদরাসা গভর্নিং বডির সহ সভাপতি মুফতি আবদুল হান্নানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি সত্যতা পেয়েছে। এ অবস্থায় মামলা চলমান রেখে অধ্যক্ষের চেয়ারে বসা সঠিক নয় বলে আমি মনে করি। জামিন পাওয়া মানে নির্দোষ হওয়া নয়’।

জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন,’ এই অধ্যক্ষ শেখ মুজিবের প্রতিকৃতিতে ফুল দিতে গিয়ে কান্নাকাটি করে সমালোচিত হন। এরপর নিজাম হাজারীর জন্য নিজের গায়ের চামড়া দিয়ে জুতা বানিয়ে ঋন শোধ করতে চেয়েছেন।তিনি কিভাবে আবার স্বপদে বহাল হলেন বুঝলামনা’।

অভিযুক্ত মাহমুদুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি জামিন নিয়ে বৈধ ভাবে আমার চেয়ারে বসেছি।’