মহানগরীসহ রাজশাহী অঞ্চলকে নাগরিকদের জন্য বাসযোগ্য করে তুলতে ২০ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এজন্য পরিবেশ, প্রাণ-প্রকৃতি, সামাজিক ও পরিবেশ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সকালে রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজারে নদী ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে এই আহ্বান জানানো হয়। এতে বক্তারা রাজশাহীর নানাবিধ সমস্যা বিশেষত পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড, গাছ হত্যা, পুকুর ভরাট, কৃষিজমিতে পুকুর খনন, নগরীর তরল ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শব্দ দূষণ, বায়ু দূষণ, নদী দখল ও দূষণ, চিকিৎসা সমস্যা, পানি সংকট, সড়কে বিশৃঙ্খলা, জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের অপর্যাপ্ততাসহ নানা সমস্যা উল্লেখ করেন। তাঁরা অবিলম্বে সমস্যাসমূহ সমাধানে এবং সকল প্রাণের জন্য বাসযোগ্য নগর গড়তে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্ঠি আকর্ষণ করেন। এই মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে রাজশাহীর পরিবেশ, প্রাণ-প্রকৃতি, সামাজিক ও পরিবেশ ন্যায়বিচার নিশ্চিতে এবং টেকসই রাজশাহী গড়তে ২০ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এতে রাজশাহীর বিভিন্ন পরিবেশবাদী ও নাগরিক সংগঠন, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকরাও অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন নদী ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি আ্যাডভোকেট এনামুল হক। সাধারণ সম্পাদক আ্যাড. হোসেন আলী পিয়ারার সঞ্চালনায় মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি নদী ও ইতিহাস গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী, চিকিৎসক নেতা ডা. ওয়াসিম হোসেন, প্রকৌশলী ড. জাকির খান, ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, সাবেক কাউন্সিলর বেলাল আহমেদ, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক, ওয়ালিউর রহমান বাবু, সেভ দি ন্যাচার এন্ড লাইফের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, ভাসানী স্মৃতি সংসদের সভাপতি অধ্যাপক ওয়ালিদুল ইসলাম, সোস্যাল প্রোগ্রেসন এন্ড এনভাইরোনমেন্ট রিট্রাভাল সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক কামরান হাফিজ, এডাব রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার, শামসুল আবেদীন ডন, আঞ্জুমান আরা শিল্পী, ওয়াটার ক্রাইসিস পার্লামেন্টের সভাপতি জুলফিকার আলী হায়দার প্রমুখ।

মানববন্ধনে উত্থাপিত দাবিগুলো হলো, রাজশাহীতে উন্নয়নের নামে গাছ হত্যা বন্ধ করা, পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করে পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন করা, নগরীর অবশিষ্ট গাছগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা, শব্দ দূষণ বন্ধ করা, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা মেনে পুকুর ভরাট বন্ধ করা এবং ইতোমধ্যে ভরাটকৃত পুকুরসমূহ অবিলম্বে পুনরুদ্ধার করা, সেইসাথে এই অঞ্চলের জলাধারগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা, কৃষিজমির সুরক্ষা নিশ্চিত করে কৃষিজমিতে পুকুর খনন অবিলম্বে বন্ধ করা, ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা আইন ২০২৬ অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা, কৃষিজমিতে পুকুর খননের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, বরেন্দ্র অঞ্চলের জন্য পৃথক পানিব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে, ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা, রাজশাহীর বিশেষায়িত ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল অবিলম্বে চালু করা, নগরীর বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা, স্থাপনা নির্মাণে নির্মাণ কোড বাস্তবায়ন করা প্রভৃতি।