মাহমুদ শরীফ, কুমারখালী (কুষ্টিয়া) : সবুজে বেষ্টি অজপাড়া গায়ের মধ্যে ইতিহাসের কালের স্বাক্ষী হিসেবে প্রাচীন ঐতিহ্য বহন করে চলেছে কুষ্টিয়ার খোকসায় অবস্থিত ফুলবাড়ির জরাজীর্ণ মঠ। গফুর মুন্সির ৬২ শতক বসত ভিটার পাশে একাংশে অবস্থিত এই মঠ গফুর মুন্সির বাবা মরহুম বাছের মুন্সি বহু আগে এই জমি কিনেছিলেন। সেই থেকে আর কেউই এই মঠটি ধ্বংস করেননি।

আঙিনার এক কোণে রয়েছে দোতলা মঠ আর ওপর কোণে আছে একতলা মন্দির আর তৃতীয় কোণে আছে ত্রিভুজাকৃতির নাগ মন্দির। বর্তমানে সাত তলা বিশিষ্ট মঠটি মাটির নিচে বসে এখন দোতলা অবশিষ্ট রয়েছে ।

এটি ছোট ছোট প্রাচীন আমলের ইট দিয়ে তৈরি। ইতিহাস বলে, মুঘল রাজত্বের প্রথম দিকে অথবা পাঠান রাজত্বের শেষ ভাগে ব্রজ বল্লভ ক্রোড়ী নামে এক বৈষ্ণব ধনী ব্যবসায়ী এই মন্দিরটি নির্মাণ করেন এবং রাধারমন বিগ্রহ স্থাপন করেন। ফুলবাড়ি মাঠ সম্পর্কে আরও জানা যায়, ফুলবাড়ি মঠের গৃহটি পাবনার জোড় বাংলার মন্দির ধরণের। এর দেয়ালের গায়ে বহু দেবদেবী বিচিত্র মূর্তি দেখতে পাওয়া যায়। এই মঠকে ঘিরে এখনো রূপকথার মত এলাকায় বহু গল্প ছড়িয়ে আছে, দেবদেবীরা সাপের রূপ মাঠ আঙ্গিনায় ঘুরতে দেখা যায়। আবার চোখের পলকেও অদৃশ্য হয়। বহু আগে একজন সাপুড়িয়া সাপ ধরতে এসে মারাও গিয়েছেন আবার অনেকে রং-বেরঙের হাজার হাজার সাপের সম্মুখীন হয়েও ভয়ে পালিয়েছেন। আজও স্থানটি সাপে ভরা।