দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা: কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার খিরারচক এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রীজ দীর্ঘ ৭-৮ বছর ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় দুই ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রতিদিন চরম ঝুঁকি ও দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও গত কয়েক বছরে মেলেনি কোনো প্রতিকার। সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্রীজটির মাঝখানের বড় একটি অংশ ধসে পড়ায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে কোনোমতে হেঁটে পারাপারের ব্যবস্থা করলেও তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে বর্ষাকালে এই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।ব্রীজটি অকেজো হয়ে থাকায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দুই ইউনিয়নের বাসিন্দারা। এদের মধ্যে রয়েছেন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ভাঙা ব্রীজ পার হচ্ছে। খিরারচক এলাকার প্রধান পেশা কৃষি। ব্রীজ ভাঙা থাকায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে পারছেন না, ফলে গুনতে হচ্ছে বাড়তি পরিবহন খরচ। জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্য কোনো অ্যাম্বুলেন্স বা যানবাহন গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে মুমূর্ষু রোগীদের স্ট্রেচারে করে বা কাঁধে করে ব্রীজ পার করতে হয়, যা অনেক সময় প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘ ৭-৮ বছর ধরে ব্রীজটি এই অবস্থায় থাকলেও জনপ্রতিনিধি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেবল আশ্বাসের বাণীই শুনিয়েছেন।