স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর : গাজীপুর জেলায় চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি বোরো আবাদ হলেও শেষ সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শিলাবৃষ্টি ও অতিবর্ষণে সেই স্বপ্ন এখন হুমকির মুখে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে, কাটা ধান শুকাতে না পেরে পচে যাচ্ছে, কোথাও আবার ধানের শীষেই চারা গজিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে-ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় বোরো আবাদে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৭,৯৯০ হেক্টর জমি, সেখানে আবাদ হয়েছে ৫৮,০১০ হেক্টর। প্রতি হেক্টরে ৪.৪১ মেট্রিক টন উৎপাদন ধরে মোট ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬২৮ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক দুর্যোগে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

উপজেলা ভিত্তিক হিসেবে গাজীপুর সদরে ১২,৩৬৫ হেক্টর, কাপাসিয়ায় ১৩,৯৫০ হেক্টর, শ্রীপুরে ১১,৬২৫ হেক্টর, কালিয়াকৈরে ১০,২৬০ হেক্টর এবং কালীগঞ্জে ৯,৮১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শ্রীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টিতে অন্তত ৯৭ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আরও অনেক জমি পানির নিচে রয়েছে।

গাজীপুর মহানগরের দক্ষিণ নীলেরপাড়া এলাকার কৃষক সুজন বলেন, বৃষ্টির পানিতে তার নিজের সহ কৃষকের ধানের জমি তলিয়ে গেছে, যেগুলো কেটে এনেছেন সেগুলোও শুকাতে না পেরে পচে যাচ্ছে, এতে কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়নের খাতিয়া এলাকার কৃষক রাসেল ভুঁইয়া জানান, তার নিজেরসহ কৃষকের প্রায় অর্ধেক জমির ধান পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে, অনেক জমির ধান এখনো পানির নিচে থাকায় কাটাই সম্ভব হয়নি, আর কাটা ধানের মধ্যেও অনেকটাই পচে গেছে। কালিয়াকৈর, কাপাসিয়া, কালিগঞ্জ ও শ্রীপুর উপজেলায় অতি বর্ষণে বড় আবাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঐতিহাসিক বেলাই বিল এলাকার এক কৃষক জানান, তার ১০-১২ বিঘা জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে, শ্রমিকের অভাব ও অতিরিক্ত মজুরির কারণে সময়মতো ধান কাটাও সম্ভব হয়নি।