চাঁদ দেখা সাপেক্ষে কাল অথবা পরশু পবিত্র ঈদুল ফিতর। আর এই ঈদকে সামনে রেখে সিলেটের পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ উচ্ছাস। তাঁদের মুখে ফুটে উঠেছে হাসি। কারণ ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যটন এলাকাগুলোয় অধিকাংশ হোটেল-মোটেল বুকিং হয়ে গেছে। আসন্ন ঈদুল ফিতরের ছুটিতে রেকর্ডসংখ্যক পর্যটক সমাগমের আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

সিলেটের সৌন্দর্য মূলত প্রাকৃতিক। এই প্রাকৃতিক দৃশ্য অবলোকন করার জন্য দেশের পাশাপাশি বিদেশে থেকেও পর্যটকেরা আসেন। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য মূলত দেখা যায় বর্ষাকালে বেশি। বৃষ্টি বা বর্ষাকাল না থাকলে সিলেটের অধিকাংশ পর্যটনকেন্দ্র মরা হয়ে থাকে অনেকটা। যার কারণে প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগের জন্য অপেক্ষা করতে হয় বৃষ্টি বা বর্ষাকালের। আর সিলেটে এমনিতেই দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বৃষ্টি বেশি হয়। সেজন্য পর্যটকেরা সিলেটে ঘুরতে আসেন। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। শীতের শুষ্কতা কাটিয়ে টানা ৪/৫ দিনের বৃষ্টিতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সিলেটের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র জাফলং, সাদাপাথর, রাতারগুল, উৎমা ছড়া, তুরুং ছড়া, বিছনাকান্দি এবং পান্তুমাই ঝরণাগুলো প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। পাথর আর স্বচ্ছ জলের মেলবন্ধনে এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পর পাহাড়ের গা বেয়ে নামা ঝরনার ডাক ধারাগুলোঁ এখন দেখার মতো অবস্থায় আছে। এদিকে বৃষ্টিতে সিলেটের চা-বাগানগুলোতেও প্রাণ ফিরে এসেছে। মরা পাতা এবার সতেজ হয়েছে। যা পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে। বিশেষ করে মালনীছড়া চা-বাগান, আলী বাহার চা-বাগান, তারাপুর চা-বাগানের দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ পর্যটকেরা উপভোগ করতে পারবেন ঈদে।

এদিকে, পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত রয়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তারা আশা করছেন, দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে উঠতে পারবেন এই ঈদে। নির্বাচন, রমজানের সময়ে মোটেও ব্যবসা হয়নি, যার কারণে ঈদের অপেক্ষায় তারা।

সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব বলেন, ঈদ উপলক্ষে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সিলেটের হোটেল-মোটেল প্রায় ৬৫ ভাগের মতো বুকিং হয়েছে। বাকি দিনগুলোর মধ্যে আশা করি পুরোপুরি পূর্ণ হবে। আর রমজান তো ইবাদতের মাস, সেজন্য মানুষজন ঘুরতে ততটা আসে না। ঈদ বা লম্বা ছুটি হলেই সিলেটে প্রচুর পর্যটকের সমাগম ঘটে। এতে করে ব্যবসা হয়।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া জানান, বৃষ্টিতে সাদাপাথরে পানি আসছে, সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। সাদাপাথরসহ কোম্পানীগঞ্জে পর্যটক বরণে আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। সাদাপাথরে ট্যুরিস্ট পুলিশ থাকবে আর থানা পুলিশ টহলে থাকবে। আমাদের মেডিকেল টিমও থাকবে সেখানে।