মোহাম্মাদ মনিরুজ্জামান, মোংলা থেকে: প্রখর সূর্যের তাপমাত্রা বৃদ্ধি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছে যে গরমের তীব্রতা কত বেড়েছে। অতিরিক্ত গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে শিশুরা পানিতে নেমে খেলায় মেতে উঠছে। গত এক সপ্তাহ ধরে চলমান তাপপ্রবাহের কারণে মোংলার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষজন ঘরের বাইরে যেতে অনাগ্রহী।

তীব্র রোদের মধ্যেই অনেককে জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হতে হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ। কাজের ফাঁকে অনেকেই রাস্তার পাশে গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছেন। ফলে আয়-রোজগারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

একজন শ্রমিক জানান, তিনি এর আগে এমন তীব্র গরম দেখেননি। বন্দরে কাজ করতে গিয়ে প্রচণ্ড গরমে কাজ করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতির জন্য প্রার্থনা করেন।

আরেকজন ভ্যানচালক বলেন, তার কর্মজীবনে এত বেশি গরম আগে কখনো অনুভব করেননি। কাজের মাঝে সুযোগ পেলেই ছায়ায় কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে হচ্ছে, এরপর আবার জীবিকার তাগিদে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। এই অবস্থায় কাজ চালিয়ে যাওয়া তার জন্য বেশ কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

একজন ট্রলারচালক জানান, অতিরিক্ত গরমে কাজ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তীব্র রোদে দীর্ঘ সময় কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কম সময় কাজ করতে পারছেন এবং যাত্রী পারাপারেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ অনেকে এই তাপের মধ্যে যাতায়াত করতে আগ্রহী নন। ফলে জীবিকা নির্বাহ করাও কঠিন হয়ে উঠছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মার্চ থেকে মে পর্যন্ত সময়কাল সাধারণত তাপপ্রবাহের মৌসুম এবং এই পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই তীব্র গরমে সুস্থ থাকতে কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

তারা উল্লেখ করেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে বয়স্কদের মধ্যে হিট স্ট্রোক, শিশুদের ডায়রিয়া এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। এ থেকে সুরক্ষা পেতে বাইরে বের হলে মাথা ঢেকে রাখা, ছাতা বা ক্যাপ ব্যবহার করা এবং পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করা প্রয়োজন। ডাবের পানি ও ফলের রস বেশি করে পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।